সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক, ৪ জানুয়ারি :
চলে গেলেন ভারতের প্রাক্তন ফুটবলার শ্যামল ঘোষ। শোকের ছায়া ময়দান জুড়ে। ৭১ বছর বয়সী শ্যামল ঘোষ হৃদরোগ জনিত সমস্যায় বাইপাসের কাছে এক হাসপাতালে মঙ্গলবার প্রয়াত হন।ইস্টবেঙ্গলে দীর্ঘদিন রক্ষণকে নির্ভরতা দিয়েছেন শ্যামল ঘোষ। মোহনবাগানে খেলেছেন, খেলেছেন মহামেডানেও। বেশ কিছু সময় জাতীয় দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে একসময়ের অত্যন্ত ঐতিহ্যপূর্ণ টুর্নামেন্ট মারডেকা কাপে ভারতের হয়ে অভিষেক ঘটে তার। ১৯৭৪ সালের এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে এশিয়াডে ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় দল ৭৪ এর এশিয়াডে সাফল্য না পেলেও শ্যামল ঘোষ ক্রমশই ময়দানে নিজের ছায়া দীর্ঘ করে তুলতে থাকেন। খিদিরপুরের হয়ে ময়দানে প্রথম পা রেখেছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালের মোহনবাগানের বিরুদ্ধে পাঁচ গোলে জয়ের ঐতিহাসিক ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের স্তম্ভ ছিলেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের অধিনায়ক ছিলেন ১৯৭৭ সালে। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে সাতটি মরশুম সুনামের সঙ্গে খেলেছেন তিনি। বাংলার হয়ে পাঁচবার সন্তোষ ট্রফি খেলেছেন। ভারতের প্রতিটি ট্রফি জয়ের স্বাদ তিনি পেয়েছেন। বড় দলের হয়ে মোহনবাগানে প্রথমে খেললেও শ্যামল ঘোষের ফুটবল জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে ইস্টবেঙ্গলেই। ফুটবলার হিসেবেই শুধু নয় তার ফুটবল জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ও কেটেছে মূলত ইস্টবেঙ্গলে।কোচিংয়ে ইস্টবেঙ্গল কে প্রভূত সাফল্য এনে দেন শ্যামল ঘোষ। তাঁর কোচিংয়ে আল জাওরার বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৬-২ গোলে জয়লাভ কিংবা বাইচুং ভুটিয়ার প্রথম কোচ হিসাবে পরিচিত শ্যামল ঘোষের বৃহত্তর পরিচিতি সৌজন্যবান ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে। বেশ কিছুদিন ধরেই হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি স্টেন্ট বসানো হয়েছিল। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তিনি আপাতসুস্থ ছিলেন। আচমকা বুকে ব্যথা অনুভব করায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বাইপাসের ধারের হাসপাতালে। শেষ রক্ষা হয়নি।দক্ষ এক ফুটবলারকে, ফুটবলারদের কাছের মানুষ এক কোচকে, সুভদ্র এক মানুষকে হারাল ময়দান।।


More Stories
মেরা কুছ সামান তুমহারে পাশ পড়া হ্যায়, প্রয়াত আশা ভোঁসলে
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?