Home » যোশীমঠ রক্ষায় এবার বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন

যোশীমঠ রক্ষায় এবার বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ জানুয়ারিঃ যোশীমঠ ঘিরে আতঙ্ক ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যোশীমঠের সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই সাতটি সংস্থার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গড়েছে কেন্দ্র। যোশীমঠের শংকরাচার্য মঠের তরফেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার জ্যোতিষপীঠ শংকরাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ জানিয়েছেন, ’২২ থেকে ৩১ জানুয়ারি যোশীমঠের নরসিংহ মন্দিরে জ্যোতিষ-ধর্ম শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এবার বিশেষ যজ্ঞের আয়োজন করা হবে। এই পরামর্শ মেনেই যোশীমঠকে বাঁচাতে কিছু শাস্ত্রীয় আচার পালন চলেছেন তাঁরা।’

প্রসঙ্গত, উত্তরাখণ্ডে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এই শহরজুড়ে এখন শুধুই ফাটল। কোনও সময় বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে দেবভূমি। ফাটল দেখা দিয়েছে ৫৬১টি বাড়িতে। ফাটল দেখা দিয়েছে অবস্থিত যোশীমঠ-মালারি সড়কেও। ভারত-চিনের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এই রাস্তাজুড়ে নানা স্থানেই দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফাটল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ঘোষণা করে দিলেন, এই জনপদ বসবাসের উপযুক্ত নয়। এখানকার পুর এলাকাগুলিকে ‘বিপর্যস্ত’ তকমা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ধামির কাছে।

রবিবার পুষ্কর সিং ধামি টুইটারে জানিয়েছেন, মোদি তাঁকে ফোন করে সব খবর নিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও তাঁদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়ে খুঁটিনাটি খোঁজ করেছেন তিনি। এদিন দুপুরেই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে ‘ডুবন্ত শহর’ যোশীমঠ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এদিকে যোশীমঠ নিয়ে মামলা পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। জ্যোতির্মঠের শংকরাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ শীর্ষ আদালতের আরজি জানিয়েছেন, এই সংকটকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার আরজিও জানিয়েছেন তিনি। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে কাজে নামার অনুরোধও করেছেন শংকরাচার্য। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়নকে কাঠগড়ায় তুলে কার্যতই রাজ্যের বিজেপি সরকারকে তোপ দেগেছেন তিনি। এদিকে, ফাটল ঘিরে আতঙ্ক বাড়তে থাকায় যোশীমঠ খালি করে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে চপারও।

যদিও জিওলজিস্ট থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী, অনেকেই যোশীমঠের অবস্থানের জন্য কী কী বিপদ ঘটতে পারে, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন অনেক আগেই। সূত্রের খবর,১৮৮৬ সালে প্রথমবার জোশীমঠ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, প্রাচীন যুগে এক ভয়াবহ ভূমিধস হয়েছিল উত্তরাখণ্ডে। সেই ধ্বংসস্তূপের ঠিক উপরেই তৈরি হয় যোশীমঠ। কার্যত সেকারণে স্বাভাবিকভাবেই যোশীমঠের ভিত খুবই দুর্বল।

About Post Author