সময় কলকাতা ডেস্ক,১১ জানুয়ারিঃ যোশীমঠ ঘিরে আতঙ্ক ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যোশীমঠে কান পাতলেই শোনা যাবে বহু মানুষের আর্তনাদ। ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বাসিন্দারা। কার্যত সে কারণেই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই যোশীমঠের হোটেলগুলি ভেঙে ফেলা হবে বলেই ঠিক করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা মতই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে দেড় লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মঙ্গলবার থেকেই বুলডোজার দিয়ে যোশীমঠের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও হোটেল ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা, হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের জেরে তা আর করা যায়নি।

ইতিমধ্যেই যোশীমঠ নিয়ে সমীক্ষায় ধরা পড়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেহরাদূনের সরকারি সংস্থা ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ রিমোট সেন্সিং-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গঢ়ওয়াল হিমালয়ের যোশীমঠ এবং সংলগ্ন এলাকা ধীরে ধীরে ডুবতে বসেছে। বছরে আড়াই ইঞ্চি বা ৬.৫ সেন্টিমিটার করে মাটি বসে যাচ্ছে। একটু একটু করে ফাটল ধরছে বাড়ির ভিতগুলোতে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছর মার্চ অবধি পাওয়া উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়েছে, ভূমিধস শুরু হয়েছিল তিন বছর আগে থেকেই। ছবিতে দেখা গিয়েছে, যোশীমঠের নীচে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ হামেশাই হচ্ছে, ফলে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। রিপোর্ট আরও বলছে, ওই সময় জোশীমঠ ও আশপাশের এলাকার পাহাড়েও ফাটল দেখা দিয়েছিল। উত্তরাখণ্ড সরকার রীতিমতো নোটিস দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে জোশীমঠের এখন যা পরিস্থিতি তাতে এই শহর আর বসবাসের জন্য উপযুক্ত এবং নিরাপদ নয়। জোশীমঠকে ‘বিপর্যয়গ্রস্ত’ শহর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, শুধুমাত্র যোশীমঠ নয়, আশেপাশের এলাকাগুলিতেও মাটি বসে যাচ্ছে। ৯০ কিলোমিটার দূরে কর্ণপ্রয়াগ, আউলিতেও একাধিক বাড়িতে ফাটল ধরেছে। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থা এনটিপিসির তপোবন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সুরঙ্গ খোঁড়ার কাজ চলছে। বর্তমানে জোশীমঠের ১১০টিরও বেশি পরিবার ঘরছাড়া। সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই যোশীমঠকে ‘বসবাসের অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব গোটা শহরটিই ফাঁকা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ভাঙার কথা থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও হোটেল মালিকদের বিক্ষোভের কারণে তা শুরু করা যায়নি।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর