Home » শিবের আপন দেশে বিপর্যয়

শিবের আপন দেশে বিপর্যয়

সময় কলকাতা ডেস্ক: ডুবতে বসেছে জোশীমঠ! সেখানকার একের পর এক বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। কার্যত ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে গোটা উত্তরাখন্ড। আর এই আতঙ্কের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের -এর কানয়ারগঞ্জ এলাকার একাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। আর তা সামনে আসার পরেই তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রীতিমত ঘুম উড়েছে সেখানকার মানুষের। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরাও। আতঙ্কের মধ্যে দিনের পর দিন কাটাতে হচ্ছে। এই বিষয়ে স্থানীয় পুরসভাকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

তবে প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই তাঁদের দেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। তবে ফাটল নিয়ে স্থানীয় মানুষজনের দাবি, স্মার্ট সিটি স্কিমের আওতায় সরকার নানা কাজ করেছে। মাটির ভিতর দিয়ে জলের পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে। সেই কারণেই এই ঘটনা বলে অনুমান বাসিন্দাদের।বিপদ যে আসবে তা আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন উত্তরাখণ্ড সরকার। ২০২১ সাল থেকেই নাকি একটু একটু করে ভাঙতে শুরু করেছিল যোশীমঠ। গতবছর ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রকে চিঠি লিখে ধামি সরকার জানিয়েছিলেন যে যোশীমঠের ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মুখে। অপরিকল্পিত ভাবে নিকাশি ব্যবস্থা, হাইড্রো ইলেকট্রিকের প্রকল্প,চারধামের অল ওয়াদার রাস্তা নির্মান না ভারতীয় প্লটের ঢুকে যাচ্ছে ইউরোশিয়া প্লেটের নিচে।ঠিক কী কারনে এই অবস্থা তা নিয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌছানো সম্ভব হয়নি এখনও।

তবে যোশীমঠের সংকট আরো বাড়বে তা নিয়ে মত বিরোধ নেই বিশেষজ্ঞ ও সরকারি কর্তাদের মধ্যে। ইতিমধ্যে যোশীমঠে শুরু হয়ে গিয়েছে বিপজ্জনক বাড়ি ভাঙার কাজ। ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে যোশীমঠ। নতুন করে ৬৮টি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। বিপজ্জনক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়াও হয়েছে। যোশীমঠকে বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে সরকারিভাবে। যোশীমঠ যে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে তা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন গবেষকরা।

২০২১ সাল থেকেই নাকি একটু একটু করে ধসে পড়তে শুরু করেছিল যোশীমঠ। অপরিকল্পিত ভাবে নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে যোশী মঠে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে বলে ১১৩ পাতার রিপোর্টে তৈরি হয়েছিল। সেকারণে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করার কথা বলা হয়েছিল সেই রিপোর্টে। যোশীমঠের ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনা করে নিকাশী ব্যবস্থা তৈরি করার কথা বলা হয়েছিল সেই রিপোর্টে । উত্তরাখণ্ডের এই জনপদ হল হিমালয়ের বেশ কয়েকটি তীর্থস্থান ও পর্যটন স্থলের গেটওয়ে। আর তার জেরেই পর্যটন শিল্পের বিকাশের নামে যথেচ্ছাচার হয়েছে নির্মান ক্ষেত্র।হিমালয়ের উৎপত্তির ইতিহাসেই কি এই জনপদের মৃত্যুর সংকেত লুকিয়ে? প্রশ্ন গবেষকদের ।

About Post Author