সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ জানুয়ারিঃ ২৩-এই বিধানসভা নির্বাচন মেঘালয়ে। তার আগে তৃণমূলের হয়ে প্রচারের উদ্দেশ্যে পাহাড়ে বারংবার যাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মেঘালয়ে এই মুহূর্তে এনপিপি-বিজেপি সরকার চলছে। সেই সরকারকে বুধবার উৎখাতের ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে ক্ষেত্রে মমতার হাতিয়ার স্থানীয়দের আবেগ। ২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেকে ক্রমশ জাতীয় রাজনীতিতে তুলে ধরতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ত্রিপুরাতে শেষ তিন বছরে নিজেদের জমি তৈরি করার কাজ একনাগাড়ে করে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই লক্ষ্যে এবার নতুন সংযোজন মেঘালয়।বুধবার তুরার সভা থেকে মমত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মেঘালয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে একমাত্র তৃণমূলই। পাঁচ বছরে কী করেছে সরকার?

মেঘালয়ে দাঁড়িয়ে এদিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে রিপোর্ট কার্ড দেখতে চাইলেন মমতা। তিনি আরও বলেন, এটা দুর্নীতিগ্রস্ত ও প্রক্সি বিজেপি সরকার। মানুষের জন্য এখনও পর্যন্ত কিছু করেনি। কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের কোনও টাকা দেয় না। নিজেদের সরকার চালিত রাজ্যগুলিকেই টাকা দেয়।তুরার সভায় তৃণমূল নেত্রী বললেন, “আমরা জানি লড়াইটা কীভাবে করতে হয়। কংগ্রেস আমাকে নিরাপত্তা দেয়নি। বাম জমানায় আমি অনেক মার খেয়েছি। আমার মাথা হাত পা কোম র সবকিছু ভেঙে দিয়েছে ওরা। ভাবতে পারবেন না, আমাকে কতটা অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। আমি জীবনে কখনও দুর্নীতি করিনি। লড়াই থেকে সরে আসেনি। একমাত্র তৃণমূলই দল যারা সুশাসন দিতে পারে। তৃণমূল ক্ষমতায় এলেই একমাত্র কৃষক, বেকার, যুবকদের সমস্যা মিটবে।”
এদিন মমতা এও বলেন, বাংলা দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হলে, মেঘালয় রিদিম কালাচারাল অব ইন্ডিয়া।মনে রাখবেন আমি সব মহিলাদের লক্ষ্মীভাণ্ডার প্রকল্পে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে দেব। মমতার অভিযোগ, বিজেপি আসলে দু’মুখো, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া ছাড়া তাদের কোন কাজ নেই। অথচ বাংলায় কীভাবে তৃণমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, মেঘালয়বাসীর কাছে সেই ফিরিস্তিও তুলে ধরেন মমতা। মমতা মেঘালয়বাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, কীভাবে সাড়ে ৯ কোটি মানুষ বিনামূল্যে রেশন পাচ্ছেন। কীভাবে বাংলার সবাইকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আপনারাও তো মাঝে মাঝে কলকাতায় যান। দিল্লি-অসমে গেলে চিকিৎসায় কত খরচ। বাংলায় গেলে চিকিৎসা একেবারে বিনামূল্যে।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গুয়াহাটি থেকে কোনও এক প্রধানমন্ত্রী সমগ্র উত্তর-পূর্বকে পরিচালনা করবেন। তাঁরা কেন জমি নিয়ে বিবাদের মীমাংসা করছে না।”নির্বাচনের সময় বিনামূল্যে পেট্রোল, গ্যাসে ছাড় দেয়। অথচ মেঘালয়ের অনেক গ্রাম আছে আজও যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি।আমি আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা থেকে এখানে হেলিকপ্টারে এসেছি। তাতে ৪৫ মিনিট সময় লেগেছে। অসম থেকে এলেও ৪৫ মিনিটই সময় লাগত। তাই এই সুবিধার জন্য বাংলার সঙ্গে মেঘালয়ের সরাসরি গেটওয়ে তৈরি করা উচিত।

যদিও মমতার দাবি, উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের জন্য গেটওয়ে হল কলকাতা। মমতা এ দিন সভা মঞ্চ থেকে বলেন,পড়ুয়াদের ১০ লক্ষ টাকার স্মার্ট ক্রেডিট কার্ড দিই আমরা। আমরা ১০ কোটি মানুষের মধ্যে ৯.৫ কোটি সাধারণ মানুষদেরই বিনামূল্যে রেশন দিই। এমনকী তাঁদের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছে সেগুলি। আমরা বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবাও দিই। আমি রাজনীতি ভালবাসি। রাজনীতি আমার পেশা নয়। এটা আমার নেশা। আমার মনে হয়েছে জনসাধারণের সেবা করা উচিত রাজনীতির আঙিনায় থেকে। কোথাও আগুন লাগলে, দুর্ঘটনা ঘটলে সরকারে থেকেই আমরা সাহায্য করতে পারি। কেউ মারা গেলে পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারি। আমরা প্রতি বছর কৃষকদের ১০ হাজার টাকা করে দিই।আপনারা যদি বর্তমানের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার পরিবর্তন করতে চান তাহলে তৃণমূলই কেবলমাত্র বিকল্প। আর কোনও বিকল্প রাজনৈতিক দল নেই।বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে এখানে শুধু মেঘালয়ের মানুষ শাসন করবে। মেঘালয়ের জন্য মেঘালয়ের মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হবে। মেঘালয়ের ভবিষ্যতের জন্য কারও কাছে মাথা নত করতে হবে না আপনাদের।” মেঘালয়ের মানুষের আবেগ ছুঁয়ে যেতে নিজের ভাষণ মমতা শেষ করেন জয় মেঘালয় ধ্বনি দিয়ে।


More Stories
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের