সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ জানুয়ারিঃ সরকারি মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কারও কারও মতে, অভিষেকের উত্তরণ শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
পরনে বিস্কিট কালারের ফুল স্লিভ সোয়েটার আর ট্রাউজার, একদমই সাদামাটা পোষাকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিযেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে প্রশাসনিক সভার মঞ্চেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলে আনলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদি ঘোষণা করতেই মঞ্চে উঠে আসেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁকে বসার জন্য আসন ছেড়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন উদয়ন গুহর মতো মন্ত্রীরা, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো দলের প্রবীণ-পোড়খাওয়া নেতারা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ও মঞ্চে বেশিক্ষণ থাকবে না। সবাইকে প্রণাম জানিয়ে নেমে যাবে। কারণ ও চায় না রাজনৈতিক নেতা হিসাবে প্রশাসনিক মঞ্চে থাকতে। আমিও এটা পছন্দ করি।

তবে, ঘটনাটি যতটা সাধারণ মনে হচ্ছে, ততটা সাধারণ বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। বুধবার মেঘালয়ে দলীয় সভায় অভিষেকের বক্তৃতা শেষ হতেই মঞ্চে বসা একজন উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছিলেন। মুখে ছিল মৃদু হাসি। তিনি আর কেউ নন, তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার তাঁর হাসি অনেক কথা বলেছিল। সেদিন তাঁর হাসিতেই ফুটে উঠেছিল, দলের আগামীর মুখ হিসেবে তিনি খুব একটা ভুল নন। দলের বিস্তারে অভিষেকের কাঁধে দায়িত্ব দিয়ে তিনি খুব একটা ভুল করেননি। বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্টেজে ডেকে ফের একবার তার পরিচয় করার ধরণই বলে দিয়ে গেল অনেক কিছু। একটা সময় ছিল, রাজনৈতিক মঞ্চে অভিষেককে তুলে আনলেও দিদিকে ভারসাম্য রাখতে অনেক কিছু বলতে হত। ইগো দেখিয়ে দলের সুপ্রিমোর ওপর চাপও দিয়েছেন অনেক। কিন্তু, এখন দলের সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অভিষেক। ফলে এখন দলের অন্যান্যরা ইগো দেখিয়ে দিদির ওপর চাপ তৈরি করারও কেউ নেই। এখন দলে বিবাদও কমেছে। স্বাভাবিকভাবেই অভিষেক এগিয়ে গিয়েছেন অনেক। কারও কারও মতে, আগামী দিনে অভিষেকের বৃহত্তর প্রশাসনিক দায়িত্বে উত্তরণের জন্যও বৃহস্পতিবারের দুপুরের ছবি ফ্রেমবন্দি হয়ে থেকে গেল।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?