Home » মাড়গ্রাম বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে মৃত পঞ্চায়েত প্রধানের ভাই, ফিরহাদের সন্দেহ মাওবাদীদের দিকে

মাড়গ্রাম বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে মৃত পঞ্চায়েত প্রধানের ভাই, ফিরহাদের সন্দেহ মাওবাদীদের দিকে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ ফেব্রুয়ারি: শনিবার সাড়ে ৯টা নাগাদ বীরভূমের মাড়গ্রামের ধুলফেলা মোড় সংলগ্ন এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় তৃণমূল সমর্থক এবং জোট সমর্থকের মধ্যে বচসা হয়। পরে সেই বচসা মেটাতে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধান ভুট্টো শেখের ভাই লালটু শেখ এবং তার বন্ধু নিউটন শেখ। অভিযোগ, সেখানেই এই দুজনকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। এই বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হন লালটু শেখ এবং নিউটন শেখ। রাতেই মৃত্যু হয় নিউটনের। গুরুতর জখম অবস্থায় লালটুকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

রবিবার দুপুরে মৃত্যু হল স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধানের ভাই লালটু শেখের। ফলে মাড়গ্রাম বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২। রবিবার কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে লালটু শেখকে দেখতে এসেছিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি অবশ্য এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের গোষ্ঠীদন্দ্বের কোনও ভূমিকা দেখছেন না। বরং তাঁর সন্দেহের তীর মাওবাদীদের দিকেই। ফিরহাদ হাকিম রবিবার দাবি করেন, বীরভূম জেলার পাশেই ঝাড়খন্ড রাজ্য। সেখানে এখনো মাওবাদীদের প্রভাব রয়েছে। তারাই বীরভূমে ঢুকে এই ধরনের ঘটনা করেছে কিনা খতিয়ে দেখতে হবে।

শনিবার রাতে মাড়গ্রামের ধুলফেলা মোড় আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গোলমাল শুরু হয়, চলছিল বোমাবাজি। এরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান রাস্তায় একটি বাইক পড়ে, আর দুই ব্যক্তি পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছেন। তৃণমূলেরই একাংশের অভিযোগ, লালটু ও নিউটনকে লক্ষ্য করেই বোমা ছোড়া হয়েছিল। তাঁদের আরও অভিযোগ, বোমা মারার পর তাঁদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। রামপুরহাট হাসপাতালে নিউটন শেখের মৃত্যু হলেও লালটুকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রবিবার দুপুরেই মৃত্যু হল লালটুর। কিছুটা আগে রবিবার সকালে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের ভাইকে দেখতে এসএসকেএম হাসপাতালে যান ফিরহাদ হাকিম। মাড়গ্রামের এই ঘটনার নেপথ্যে মাওবাদী যোগের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ঘটনার পর বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠীকে সরিয়ে দিয়েছে নবান্ন। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভাষ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

About Post Author