সময় কলকাতা ডেস্ক,১০ ফেব্রুয়ারিঃ বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের নাড়ির জোর। এই যে খাদ্যপ্ৰিয় বাঙালির রসনা তৃপ্ত করার প্রেম, তার নজির আমরা দেখেছি ‘প্রাকৃত পৈঙ্গল’ কাব্য বা চর্যাপদে। যেখানে সাধারণ বাঙালির খাদ্য প্রীতির উল্লেখ রয়েছে – ‘ওগ্রভত্তা রম্ভঅপত্তা, গাইকঘিত্তা দুদ্ধসঙ্গুত্তা/মোইণিমচ্ছা ণালিচগচ্ছা, দিজ্জই কন্তা খা পুণবন্তা ’ অর্থাৎ কলার পাতায় ফ্যান সহ গরম ভাত, কিছু গাওয়া ঘি, গরম দুধ, ময়না মাছ, নালিতা শাক (পাটশাক) স্ত্রী পরিবেশন করছে, পুণ্যবান খাচ্ছে।

বইমেলায় স্ত্রীর পরিবর্তে আমরা দেখতে পাচ্ছি ফুড স্টলের পরিবেশক কর্মীদের আর তার সামনে আপামর বাঙালি জাতির ভিড়। তাঁরা দিনভর খাচ্ছেন হরেক রকম খাওয়ার,কেউ কেউ আবার বলছেন পেট মোটা করে তবেই তাঁরা বইমেলা প্রদক্ষিণ করবেন। রকমারি খানার পসরা সাজিয়ে বসেছেন ফুড কোর্টের স্টল মালিকরা।

বইমেলা শেষ হওয়ার পরেও ভিড় লেগেই থাকছে ফুড কোর্টে। চাইনিস হোক বা মোগলাই, খাওয়ারের স্টলে উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ার মত। দাম ও সাধ্যের মধ্যে আয়োজনও প্রচুর। বাঙালির রসনা তৃপ্তির জন্য রয়েছে মিষ্টিমিষ্টান্ন। নবদ্বীপ থেকে আগত খাওয়ার স্টল বিক্রির বহরে খুশি। যতই কিছু মানুষ বলুক খাওয়ার স্টলের সংখ্যা অতিরিক্ত, কিন্তু বাস্তবের চিত্র হল ফুড কোর্ট বইমেলায় কিছু মানুষের কাছে মরুদ্যান।

বইয়ের টানে অভুক্ত অবস্থায় অনেকেই বইমেলায় ঢুকছেন, রয়েছেন বইপ্রেমী ও পুস্তক ব্যবসায়ীরা। তাঁদের শান্তির নীড় ফুডকোর্ট। যাদের সারাদিন মেলায় ঘোরাঘুরি করতে হচ্ছে অথবা যারা বইমেলা এসে কিছু না খেয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না অথবা যারা বসার জায়গা পাচ্ছেন না তারা এসে নিজেদের পকেট বুঝে, সাধ্য বুঝে বসছেন ফুড স্টলে। দীর্ঘ পথশ্রমে ক্লান্ত পাঠকের বা বইমেলায় আগতদের জল ও খাদ্য মিলছে, বসার স্থান মিলছে,স্বস্তি মিলছে। যে কোনও বয়সের লোক শিশু বা বৃদ্ধ বৃদ্ধা সবার কাছেই নাটোরের বনলতা সেনের মত দু-দণ্ড শান্তি দিচ্ছে বইমেলা প্রাঙ্গণে বিশাল জায়গা জুড়ে থাকা রকমারি বৈচিত্র সম্পন্ন ফুডকোর্ট।


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস