Home » ভারতে বিবিসির সম্প্রচার নিষিদ্ধের দাবি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

ভারতে বিবিসির সম্প্রচার নিষিদ্ধের দাবি খারিজ সুপ্রিম কোর্টের

সময় কলকাতা ডেস্ক,১১ ফেব্রুয়ারিঃ বিবিসির ‘বিতর্কিত’ তথ্যচিত্র ‘ইন্ডিয়া: দ্য মোদী কোয়েশ্চেন’, ঘিরে উত্তপ্ত গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিবিসি’র বিতর্কিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এবার ভারতে বিবিসির সম্প্রচার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি সঞ্জীব খান্না প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কী করে সম্ভব! আদালত কী করে একটি সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে বলতে পারে? সময় নষ্ট করার কোনও মানে নেই। রিট পিটিশনটি পুরোপুরি ভুল ধারণার ভিত্তিতে করা। মামলাটি শুনানির যোগ্যই নয়। তাই মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হল।’


উল্লেখ্য,২০০২-এর গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে বিবিসির তৈরি তথ্যচিত্রকে ঘিরে ভারতে বিতর্ক চলছে। বিবিসি তথ্যচিত্রটি ভারতে প্রদর্শনের ব্যবস্থা না করলেও সামাজিক মাধ্যমে সেটি ছড়িয়ে পড়েছে। তথ্যচিত্রটিতে গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা এবং ভারতে মুসলিমদের দুর্দশা তুলে ধরা হয়েছে। এবিষয়ে ভারত সরকারের বক্তব্য, তথ্যচিত্রটি ভিত্তিহীন তথ্যের ভিত্তিতে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে তৈরি করা হয়েছে এ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে। ভারত সরকার তথ্যচিত্রটির এ দেশে প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলেছে,সমাজমাধ্যমেও তথ্যচিত্রটি শেয়ার করা যাবে না। ভারত সরকারের ওই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে। সেই মামলায় সর্বোচ্চ আদালত সরকারি নিষেধাজ্ঞার উপর স্থগিতাদেশ জারির দাবি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণ ব্যাখ্যা করে হলফনামা জমা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি এপ্রিলে হবে বলেই জানা গিয়েছে।


গত মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিতর্কিত বিবিসি তথ্যচিত্র প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র নেড প্রাইস জানিয়েছেন, ওই তথ্যচিত্র সম্পর্কে খুব বেশি না জানা নেই তাঁদের। ভারতে নানা বিষয়ে যা কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় আমেরিকা। প্রসঙ্গত, বিবিসির ওই তথ্যচিত্রে গুজরাট দাঙ্গার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগ নিয়ে একাধিক বিতর্কিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই তথ্যচিত্রটি। সাংবাদিক সম্মেলনে নেড প্রাইস জানান,’যে তথ্যচিত্রের কথা বলছেন, সেটা নিয়ে বিশেষ কিছু জানা নেই। তবে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক প্রসঙ্গে অনেক কিছু জানি। দুই দেশের গণতন্ত্রে প্রচুর মিল রয়েছে। ভারতে যা কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা নিয়ে সংশয় থাকলে আমরা বরাবরই প্রশ্ন করে থাকি।’


যদিও বিবিসি-র ওই তথ্যচিত্রে ভারতের সংখ্যালঘু জনসংখ্যার প্রতি নরেন্দ্র মোদী সরকারের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ২০১৯-এ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ করে কেন্দ্র। সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫ (ক) ধারা পর্যন্ত তুলে দেওয়া হয়। বিবিসি-র ওই তথ্যচিত্রে মোদী সরকারের এই ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়েছে।

About Post Author