সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ ফেব্রুয়ারি: শনিবার কোচবিহারের মাথাভাঙা কলেজের মাঠে জনসভা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সভামঞ্চে তিনি আচমকাই ডেকে নেন এক যুবককে। এরপর সভায় আসা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছোঁড়েন যে প্রেমকুমার বর্মণ নামে কাউ চেনেন কি না। পরে নিজেই ওই যুবকের পরিচয় করিয়ে দেন উপস্থিত জনতার কাছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি দিনহাটা-১ ব্লকের গীতলদহ এলাকায় প্রেমকুমার নামে এক যুবকের মৃত্যু হয় বিএসএফের গুলিতে। অভিষেক আরও বলেন, বেঙ্গালুরুতে কাজ করা ২৩ বছরের ওই যুবক দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু মাঠে ঘুরতে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানের গুলি খেয়ে মৃত্যুমুখে ঢলে পড়েন। ঘটনাটি গত ২৪ ডিসেম্বরের। অভিষেকের প্রশ্ন, এক-দুই হাত দূর থেকেই প্রেমকুমারকে গুলি করে বিএসএফ। আপনারা কেউ জানেন?

এরপরই অভিষেক তীব্র আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। অভিষেকের কথায়, ‘বিএসএফের উপদ্রবের কথা আপনারা সবাই জানেন। কিন্তু এই যে নির্দোষ রাজবংশী যুবককে হত্যা করল কেন্দ্রীয় বাহিনী, আর যে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল রাজবংশীদের দরদ দেখায় আমি তাদের প্রশ্ন করছি, প্রেমকুমার কে ছিল? জঙ্গি? মাঠে যখন গিয়েছিল, তার কাছে বোমা-বন্দুক উদ্ধার হয়েছে? গরু পাওয়া গিয়েছে? সোনা পাচার করতে গিয়েছিল?’

অমিত শাহ ছাড়াও অভিষেক কটাক্ষ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথা দিনহাটার সাংসদ নিশীথ প্রামানিককেও। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘৫০টা ক্যামেরার সামনে বুক ঠুকে বলে যাচ্ছি, তোমাদের স্ট্যান্ড ক্লিয়ার করো। উদাহরণ তুলে ধরলাম এই কারণে যে, প্রেমকুমারের পোস্টমর্টেম (ময়নাতদন্তের) রিপোর্ট আমি হাতে নিয়ে এসেছি। সেই রিপোর্ট দেখে আমি হতবাক। রিপোর্ট বলছে, তার শরীর থেকে ১৮০টি বুলেটের টুকরো পাওয়া গিয়েছে! ভাবুন, কী নৃশংস ভাবে একটা বাচ্চা ছেলেকে মেরেছে!‘ এরপরই প্রেমকুমারের পরিবারকে পাশে নিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, এর শেষ দেখে ছাড়বেন। তিনি বলেন, আমরা এর শেষ দেখে ছাড়বো, যে অফিসার এই ঘটনায় জড়িত আছেন, কেউ ছাড়া পাবেন না। তিনি হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিযারি দিয়েছেন কোচবিহারের সভা থেকে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?