সময় কলকাতা ডেস্ক,২০ ফেব্রুয়ারিঃ এপ্রিল মাসেই শুরু উত্তরাখণ্ডে চারধাম যাত্রা। ইতিমধ্যেই চারধাম যাত্রা নানান প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। তারইমধ্যে এবার নতুন করে ফাটল দেখা দিয়েছে যোশীমঠের কাছে বদ্রীনাথ হাইওয়ের ১০টি জায়গায়। যোশীমঠ এবং মাড়োয়ারির মধ্যে ১০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে এই ফাটলগুলি তৈরি হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। নতুন করে ফাটল তৈরি হওয়ায় গোটা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে,এই ফাটল চারধাম যাত্রায় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে না।

যোশীমঠ বাঁচাতে তিন দফা পরিকল্পনা নিয়েছে চামোলি জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দল, রাজ্য পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে কর্মসূচিও ঠিক হয়েছে।
জেলাশাসকের তরফে জানানো হয়েছে,ভূমিধসে যাঁদের বাড়িঘর ও জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাঁদের অতিরিক্ত ১০০ বর্গমিটার করে জায়গা দেওয়া হবে। বাড়ি নির্মাণের জন্য ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে। তবে অতিরিক্ত জমি পেতে হলে সরকারের ঘরে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রশাসনের নির্দেশ মতই নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এমনকী মাটির কম্পন পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি সেখানে ঘরবাড়ি পুনর্নিমাণের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করতে চায় সরকার। যোশীমঠের ভাঙন রুখতে সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইন্সটিটিউটের তরফে একটি বিপর্যয় প্রতিরোধক মডেল শহর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে,কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের তরফেও তিন-স্তরীয় অ্যাকশন প্ল্যানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত,উত্তরাখণ্ডে পাহাড়ের কোলে ছোট্ট এই শহরজুড়ে এখন শুধুই ফাটল। কোনও সময় বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়তে পারে দেবভূমি। ফাটল দেখা দিয়েছে ১০০০টিরও বেশি বাড়িতে। ফাটল দেখা দিয়েছে অবস্থিত যোশীমঠ-মালারি সড়কেও। ভারত-চিনের সীমান্তের খুব কাছে অবস্থিত এই রাস্তাজুড়ে নানা স্থানেই দেখা যাচ্ছে বড় বড় ফাটল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ঘোষণা করে দিলেন, এই জনপদ বসবাসের উপযুক্ত নয়। এখানকার পুর এলাকাগুলিকে ‘বিপর্যস্ত’ তকমা দেওয়া হয়েছে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত