Home » মুগ্ধতার নাম লীলা মজুমদার

মুগ্ধতার নাম লীলা মজুমদার

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৬ জানুয়ারি : জীবনের পাকদণ্ডী বেয়ে তিনি উঠতে উঠতে আশ্চর্য উপহারে ভরে দিয়েছেন  – বাংলা সাহিত্য আর বাংলার ছেলে- মেয়েদের। তার বই যারা একবার পড়েছে তারা বড় হলেও আর বুড়ো হয় নি। তিনি লীলা মজুমদার। প্রায় ১০০ বছরের জীবনকালে কত অজস্র বই লিখে গিয়েছেন যার প্রতিটি একেকটি অমূল্য সম্পদ। পদি পিসির বর্মিবাক্স, গুপির গুপ্তখাতা, হলদে পাখির পালক, নেপোর বই, টংলিং, মাকু, দিনে দুপুরে, ভুতোর ডায়েরি – আকর্ষণ আর বর্ণনার দিক থেকে কোনটি ছেড়ে কোনটির কথা আগে বলা যাবে তা কেউ জানে না। অসামান্য গল্প, উপন্যাস, রম্য রচনা বা নাটক প্রতিটি বই পাঠক -পাঠিকাকে নিয়ে অদ্ভুত এক মনকেমনের দেশে। ভূত,চোর,হাসি, বিজ্ঞান, রূপকথা – সবমিলিয়ে  আশ্চর্য সব কাহিনী তিনি লিখে গিয়েছেন।

শুধু কি ছোটদের জন্য লেখা? স্মৃতিকথা, রম্যরচনা, জঙ্গলের কথা, অনুবাদ সাহিত্য,বড়দের জন্য লেখা – কত কিছুই একে একে উজাড় করেছেন তিনি তাঁর ঝুলি থেকে। বাংলায় ঠাকুর পরিবার ছাড়া যে পরিবার শিল্প, সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতিতে সবচেয়ে প্রভাব রেখেছিল সেই রায়-পরিবারের কন্যা তিনি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আবার শিশু সাহিত্যে রায়চৌধুরীদের ঠাকুর পরিবারের চেয়েও বাংলা সাহিত্যে প্রভাবশালী বলে উল্লেখ করেছেন।এই পরিবারের রত্নদের মধ্যে রয়েছেন উপেন্দ্র কিশোর, সুকুমার রায়, সত্যজিৎ রায়, , সুখলতা রাও, নলিনী দাসের মত মানুষ। লীলা মজুমদার ছিলেন উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর ভ্রাতা প্রমদারঞ্জন রায়ের কন্যা। অর্থাৎ তিনি ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের পিসি।  লীলা মজুমদারের জন্ম ১৯০৮ সালের ২৬ জানুয়ারি। তাঁর শৈশব কাটে শিলং-এ। পরে কলকাতায় ফিরে আসেন। ১৯২৪ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন। ছোটবেলার দিন যেখানে কেটেছিল সেই শিলং আর প্রথম জীবনের ঘটনা নিয়ে তাঁর অন্তর্ভেদী দৃষ্টির বর্ণনা রয়েছে পাকদণ্ডীতে।রবীন্দ্রনাথের আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি শান্তিনিকেতনে এক বছর ছিলেন।আশুতোষ কলেজেও তিনি অধ্যাপনা করেছেন।তাঁর কর্মজীবনের বেশ কিছুদিন কাটে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে।

সন্দেশ পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প বেরিয়েছিল ১৯২২ সালে। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সন্দেশের সাথে ছিল তাঁর নাড়ির যোগ।হলদে পাখির পালক, বক বধ পালা, আর কোনখানে বইগুলির জন্য তিনি পুরস্কৃত হয়েছিলেন। তবুও তাঁর প্রকৃত পুরস্কার তিনি পেয়ে চলেছেন তাঁর পাঠক পাঠিকার কাছে।তিনি চলে গিয়েছেন ১৫ বছর আগে।আজও আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা তাঁর লেখা পেলে গোগ্রাসে গিলে চলে তাঁর ভাষা আর বর্ণনার মাধুর্যর কারণে। প্রতিটি লেখা তিনি ছবির মত তুলে ধরেন। তিনি যেন গল্প বলে চলেছেন পাঠকপাঠিকার সামনে বসে, ঘরোয়া আড্ডার আসরে। মুগ্ধতার নাম লীলা মজুমদার।।

 

About Post Author