সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ মার্চ :
ভূতের মেলার কথা বলার আগে আপনাদের যদি প্রশ্ন করা হয়, ভূত দেখেছেন? তাহ’লে বিভিন্নজন বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করবেন। কেউ অশরীরীর অস্তিত্ব স্বীকার করবেনই না, আবার কেউ হয়তো দূর ছাই বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন, কেউ করবেন ব্যঙ্গ । অথচ ভারতবর্ষেরই খান্ডোয়ায় গেলে তাঁদেরই বাক্যহারা হয়ে যেতে হবে। খান্ডোয়ায় ভূতের মেলা চলে আসছে যুগযুগ ধরে।অবিশ্বাসীদের চোখ কপালে উঠতে পারে জমজমাট ভূতের মেলা দেখে।

বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে সভ্যতার অগ্রগতি ক্রমবর্ধমান। আজ বিজ্ঞানের নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে । প্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে আধুনিক সমাজও । এরই মাঝে কিছু কিছু জায়গায় আজও কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস দানা বেঁধে রয়েছে । কুসংস্কারের কালো ছায়া আজও বহু মানুষের মনে। সময় বদলাচ্ছে অথচ আজও বহু মানুষের মনে বদলায়নি কুসংস্কার-অন্ধবিশ্বাসের প্রভাব। শুভ চেতনার উন্মেষ যেমন ঘটছে তেমনি অন্যদিকে আস্তে আস্তে থাবা বসাচ্ছে অশুভ শক্তি। ভূত, প্রেতাত্মা ,আত্মা ইত্যাদির অস্তিত্ব নিয়ে অতীতেও যেমন গবেষণা হয়েছে বর্তমানেও বহু মানুষ আজও অনুসন্ধান করে চলছে। একদিকে যেমন বিজ্ঞান বিশ্বাস করে না আত্মার অস্তিত্ব, অন্যদিকে একশ্রেণীর মানুষ বিশ্বাস করে আত্মার উপস্থিতি। এরই দোলাচলে পড়ে অবিনশ্বর আত্মার অস্তিত্ব রয়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। তারই ফলস্বরূপ একবিংশ শতাব্দীতেও মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ায় বসে এক অদ্ভুত মেলা।

শুনতে আজব লাগলেও এটাই বাস্তব, খান্ডোয়ায় হয় ভূতের দরবার। ভূতের দরবার, সেটা আবার কি? হ্যাঁ, এখানকার মানুষ আজও বিশ্বাস করে ভূত-প্রেত আত্মারা আজও পৃথিবীতে বিরাজমান। শুভ আর অশুভ আত্মার লড়াই প্রতিনিয়ত চলছে। তন্ত্র মন্ত্রের প্রভাবে যে কোনও মানুষের জীবন তছনছ করে দিতে পারে কোনও তান্ত্রিক অথবা কোন পীর। এই অন্ধবিশ্বাস নিয়ে আজও বহু মানুষ সম্মিলিত হয় খান্ডোয়ার এই মেলায়। খান্ডোয়ায় সাইলানি বাবার দরগা আছে। যে দরগায় হোলির দিন থেকে শুরু করে টানা পাঁচ দিন এই মেলা চলে। যেখানে বসে ভূতের দরবার। যে দরবারে বহু মানুষ আসে যাদের চালচলন এবং কণ্ঠ থেকে সাধারণ মানুষের দৃশ্যের বাইরের ভিন্ন দৃশ্য ও ও শব্দ শোনা যায় । যা আপনাকে অবশ্যই আকৃষ্ট করবে। শারীরিক অথবা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধকতায় বা বিশেষভাবে সক্ষম বহু মানুষকেও দূর-দূরান্ত থেকে আসতে দেখা যায় এই মেলায়। এই মেলায় আগত প্রতিটি মানুষ বিশ্বাস করে, ভূত-প্রেত অশুভ আত্মা সবই বাবার দরগা এসে উপস্থিত হয় এবং বাবা তাদের নিয়ন্ত্রণ করেন। অশুভ আত্মাদের মানুষের শরীর থেকে বের করে শাস্তি দেন দরগার বাবা নিজেই। হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের চিকিৎসায় হতাশ হয়ে পড়া বহু মানুষও রোগ মুক্তির আশায় এই দরগা এসে উপস্থিত হন। ভূতের মেলা আদতে হয়ে ওঠে প্রেতের হাত থেকে মুক্তির মেলা। মেলায় পরিবারে শান্তি আনার জন্য অত্যাচারিত আর নির্যাতিত বা নির্যাতিতা হন স্কিজোফ্রিনিয়া ও হিস্টিরিয়ায় আক্রান্তরা। যুগ যুগ ধরে ভূত ছাড়ানোর নামে ভূতে পাওয়া মানুষদের কপালে জল পোড়া, তেল পড়া থেকে ঝাঁটার বাড়ি সবই জোটে।

তবে এই মেলার অন্য একটি উজ্জ্বল দিক ও রয়েছে। এই মেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।খান্ডোয়ায় যে খালি এরকম মেলা হয় তাই নয়, মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার মালজপুরেও এরকম মেলা হয়। ভূতে অবিশ্বাস যারা করেন তাঁদের যুক্তিতর্ককে নস্যাৎ করেই চলছে ভূতের মেলা, ভূতের দরবার।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক