সময় কলকাতা ডেস্ক,১৫ মার্চঃ গরু পাচার মামলার নয়া মোড়। হদিশ মিলল সিউড়ি সমবায় ব্যাঙ্কে প্রায় ৩৫০ ভুয়ো অ্যাকাউন্টের। গত মাসেই এই অ্যাকাউন্টগুলির নথি বাজেয়াপ্ত করেছিল সিবিআই। এবার ওই ভুয়ো অ্যাকাউন্টের যাবতীয় নথি ও তথ্য তলব সিবিআইয়ের। উল্লেখ্য,এর আগে গত জানুয়ারি মাসেই সিউড়ির সমবায় ব্যাঙ্কে হানা দেয় সিবিআই। সেসময় সিউড়ি শাখা-সহ বীরভূম জেলার একাধিক কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের শাখায় বেশকিছু ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সন্ধান মেলে। ব্যাঙ্ক ম্যানেজারদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। সমবায় ব্যাঙ্কের একাধিক শাখায় ৩৫০-এরও বেশি বেনামি অ্যাকাউন্ট খুলে কালো টাকা সাদা করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে। ইনভেস্টিগেটিং অফিসার সুশান্ত ভট্টাচার্য নিজে অ্যাকাউন্টগুলির নথি খতিয়ে দেখছেন।

সূত্রের খবর,প্রথমে ১৭৭ ও পরে ৫৪ টি বেনামি অ্যাকাউন্টের পর ৩ ফেব্রুয়ারি নতুন করে ১১৫ টি অ্যাকাউন্টের নথি জমা করেছিল সিবিআই। এই অ্যাকাউন্টগুলি বাফার অ্যাকাউন্ট হিসাবে ব্যবহার করার হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। ১১৫ টি বাফার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টগুলির সঙ্গে কেষ্ট মন্ডলের কী যোগ রয়েছে, তা জানার জন্যই তদন্ত শুরু করেছিলেন তদন্তকারীরা। এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অ্যাকাউন্টগুলি ওই ১৬ জনের খোলা নয় এবং টাকাও তাঁদের নয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপে এই কাজ ব্যাঙ্ক ম্যানেজার করেছেন বলে আদালতে জানিয়েছেন সিবিআইয়ের আইনজীবী।

সিবিআইয়ের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বেনামি অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করে প্রচুর কালো টাকা সাদা করা হয়েছে। রাইস মিল সংক্রান্ত প্রচুর টাকার লেনদেন হয়েছে এইসব অ্যাকাউন্ট থেকেই। সিউড়ি সমবায় ব্যাঙ্কের এই অ্যাকাউন্টগুলিতেও গরু পাচারের টাকা লেনদেন হয়েছে কিনা? ইতিমধ্যেই তাও খতিয়ে দেখছেন সিবিআই আধিকারিকরা। এদিকে,সমবায় ব্যাঙ্কগুলির অ্যাকাউন্ট থেকে যে টাকা ঘুরপথে অনুব্রত মণ্ডলের অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল, সেখানে রাজীব ভট্টাচার্যের নামও জড়িয়ে রয়েছে। এই সেই রাজীব ভট্টাচার্য, যাঁর বিরুদ্ধে অনুব্রত মণ্ডলের স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ৬৬ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গিয়েছে বাফার অ্যাকাউন্টে।


More Stories
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
অভিষেকের দুয়ারে ইডি