সময় কলকাতা ডেস্ক,২২ মার্চঃ বিতর্ক জট কাটিয়ে অবশেষে বুধবার বিধানসভায় শপথ নিলেন বাম সমর্থিত কংগ্রেস বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। সাগরদিঘি উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার ২০ দিন পর এদিন শপথগ্রহণ করলেন বায়রন। ২৭ ফেব্রুয়ারি সাগরদিঘী বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোট বেঁধে লড়াই করে কংগ্রেস ও সিপিএম। সাগরদিঘিতে প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপিও। তৃণমূলকে হারিয়ে ২৩ হাজার ভোটে জয়ী হন বায়রন। এরপর ২ মার্চ ফল ঘোষণা হয়। ফল ঘোষণার পর ২০ দিন লেগে গেল শপথ নিতে। যদিও শপথগ্রহণে দেরি হওয়ায় রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেন বায়রন। তিনি বলেন, ‘আমি যদি তৃণমূলের বিধায়ক হতাম, তাইলে আমার শপথ জয়ী হওয়ার পরদিনই হয়ে যেত। আজ ২০ দিন পর শপথ হল। সবকিছু চোখের সামনে ঘটছে। সাধারণ মানুষ সব দেখছেন। শাসকদল ইচ্ছা করে আমার শপথগ্রহণে দেরি করাল।’
আরও পড়ুন ‘মোদি হটাও দেশ বাঁচাও’ পোস্টারে ছয়লাপ দিল্লি! গ্রেফতার ৬

২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল মুর্শিদাবাদের সাগরদীঘি বিধানসভার উপনির্বাচন। ৩ বারের তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত সাহার প্রয়াণে এই কেন্দ্রটিতে উপনির্বাচন হয়। তবে হ্যা, ঝালদা ইস্যুটির সঙ্গে এই কেন্দ্রের কোনও মিল না থাকলেও একটি কেন্দ্রের নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক কাটাচেড়ার সাক্ষী কিন্তু থেকে যাচ্ছে বাংলা সহ গোটা দেশের মানুষ। এখানে হিংসা ক্ষীণ, তবে যা জোড়াল হয়েছে, তা হল রাজনৈতিক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের তেজ। ঘাসফুল শিবির ও পদ্ম শিবিরের দ্বৈরথের ঘটনা শিরোনাম কেড়েছে। আসরে নেমে হাল ধরতে দেখা গিয়েছে কংগ্রেসকেও। বলে রাখা ভালো, এর আগে সমবায় নির্বাচন গুলিতে বাম-বিজেপি আঁতাতের অভিযোগ বারবার প্রকাশ্যে এনেছিল শাসকদল তৃণমূল। কোথাও কোথাও সিপিএমের মিছিলে পদ্মশিবিরের প্রতীকও নজরে পড়েছে রাজ্যবাসীর।
আরও পড়ুন উচ্চ প্রাথমিকে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভে ধুন্ধুমার সল্টলেকে

তবে, সাগরদীঘির উপনির্বাচনের আগে সেই কেন্দ্রে প্রচারে গিয়ে সরাসরি অভিযোগ উঠেছিল বিজেপি-কংগ্রেসের আঁতাতের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় দাঁড়িয়ে, রীতিমতো কংগ্রেস প্রার্থীর সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসের ছবি দেখিয়ে বলেছিলেন এই আঁতাতের কথা। তবে, পাল্টা দিতে ছাড়েনি কংগ্রেস-বিজেপি দুই শিবিরই। এরই মাঝে, কংগ্রেস প্রার্থীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার বিষয়টিও চাক্ষুস করে বাংলার মানুষ। প্রচারে গিয়ে কালো পতাকা দেখানো হয় বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকেও। সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে সংখ্যালঘু তাপ খেলতে পিছপা হননি শুভেন্দু অধিকারীও।স্বাভাবিকভাবে প্রচারপর্বে সাগরদীঘি ছিল সংবাদের শিরোনামে। কংগ্রেস কর্মীর গ্রেফতার, হাইকোর্টে মামলা করে তাঁর জামিন পাওয়া, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সাগরদিঘি থানার ওসিকে সরিয়ে দেওয়া— সবটুকু ঘিরেই ছিল কৌতূহল, উত্তেজনার পারদ। ভোটের দিনও সেই কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি উঠে এল সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায়। ভোটের দিনও অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম সাগরদীঘি।


More Stories
প্রসেনজিতের বাড়িতে অমিত শাহ
বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে মমতা
তারাতলা বিপর্যয় কাণ্ডে ববি হাকিমের গ্রেফতারের দাবি