Home » নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে অবশেষে মুখ খুললেন রহস্যময়ী শ্বেতা

নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে অবশেষে মুখ খুললেন রহস্যময়ী শ্বেতা

সময় কলকাতা ডেস্ক,২২ মার্চঃ অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডি-র স্ক্যানারে উঠে এসেছিল এক রহস্যময়ী নারী শ্বেতা চক্রবর্তীর নাম। তাঁকে নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এবার নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন শ্বেতা চক্রবর্তী। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শ্বেতা বলেন,‘অয়নের প্রোডাকশন হাউজের ছবি কবাডি কবাডিতে কাজ করেছি। এছাড়াও কাউন্টিং নামের একটি শর্ট ফিল্মেও কাজ করেছি। সেই কাজের টাকা আমি পেতাম অয়নের থেকে। টাকার বদলে উনি আমাকে ওই গাড়িটি ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। আমার কাজের পারিশ্রমিক হিসেবেই অয়ন গাড়ি দিয়েছিল। একইসঙ্গে এদিন অয়ন ঘনিষ্ঠ শ্বেতা বলেন,আমি ওনার থেকে চুঁচুড়ায় ফ্ল্যাট কিনেছিলাম।পরে ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কারণে ছেড়ে দিই। সেই টাকা উনি ফেরত দেন। আমার কাছে ফ্ল্যাটের চুক্তিপত্র রয়েছে এবং ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের প্রমাণও রয়েছে।’

আরও পড়ুন  শপথ নিলেন কংগ্রেস বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস!


উল্লেখ্য,সোমবার ভোররাতে অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছে ইডি। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে এদিনই অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করে ইডি। এর পাশাপাশি সল্টলেকের এফডি ব্লকে অয়নের অফিস থেকে শ্বেতার গাড়ি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি উদ্ধার করেন ইডি আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, রাজ্যের বাইরে একাধিক রিসর্ট রয়েছে অয়ন ঘনিষ্ঠ শ্বেতার নামে। ইতিমধ্যেই শ্বেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ২৫ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেও কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। শ্বেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এত টাকা কোথা থেকে এসেছে, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।

আরও পড়ুন   নখের যত্নে আপনার জন্য রইল কিছু টিপস

সূত্রের খবর,রহস্যময়ী শ্বেতার বাড়ি নৈহাটির বিজয়নগরে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মডেলিং পেশার সঙ্গে যুক্ত। সেই সূত্র ধরেই ২০১৭ সাল থেকে শ্বেতার সঙ্গে অয়ন শীলের পরিচয়। এদিকে,মডেলিংয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কামারহাটি পুরসভার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগে চাকরি করেন শ্বেতা চক্রবর্তী। সোমবার অয়নের বাড়ি থেকে যে সমস্ত নথি উদ্ধার হয়েছে, সেখানেই পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। সেই নথি থেকেই শ্বেতা চক্রবর্তীর নাম উঠে এসেছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। এর পাশাপাশি শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সল্টলেকের এফডি ব্লকে তল্লাশি চালিয়ে অয়ন শীলের বাড়ি থেকে ইডি ৩২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকবই ও নথি উদ্ধার করেছে। যার মধ্যে একটি গ্রামীণ ব্যাংক, তিনটি সরকারি ব্যাংক ও দু’টি বেসরকারি ব্যাংকের নথি পাওয়া গিয়েছে।

About Post Author