Home » রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ ইস্যুতে কী বরফ গলছে কংগ্রেস-তৃণমূলের?

রাহুলের সাংসদ পদ খারিজ ইস্যুতে কী বরফ গলছে কংগ্রেস-তৃণমূলের?

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৭ মার্চঃ রাহুল গান্ধির সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে এই মুহূর্তে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। শতাব্দী প্রাচীন দলটি ফের আন্দোলনের অস্ত্র সাজাতে শুরু করেছে। রবিবারই দেশজুড়ে পালিত হয়েছে কংগ্রেসের ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলন। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাহুল ইস্যুতে বিজেপি বিরোধী শক্তি গুলি কতখানি কাছাকাছি আসবে,তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। যদিও বর্তমান সময়কালে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সম্পর্কের যে অবনতি ঘটতে দেখা গিয়েছে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই,সেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলে একাংশের। যদিও রবিবার, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব জানিয়েছেন,কংগ্রেস ‘দাদাগিরি’র রাস্তা থেকে না সরলে বিজেপি বিরোধী জোট হোঁচট খাবে।

আরও পড়ুন    রাহুল গান্ধির সাংসদ পদ বাতিলের জের, কালো পোশাক পরে সংসদে বিক্ষোভ

তথ্য বলছে, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সারাদেশে ১৮২ টি আসনে বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেসের সরাসরি লড়াই। সেখানে আঞ্চলিক দলগুলি কিভাবে নিজেদের চালিকাশক্তি হিসেবে মনে করছে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে যথেষ্ট। চলতি বছরে রাজস্থান,মধ্যপ্রদেশ,ছত্রিশগড় বিধানসভা নির্বাচন। এই তিন রাজ্যে লড়াই হবে সরাসরি বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে। দক্ষিণের কর্ণাটক এবং তেলেঙ্গানাতেও চলতি বছরেই বিধানসভা নির্বাচন। কর্নাটকে কুমারস্বামীর জনতা দল সেকুলারের সঙ্গে যদি কংগ্রেসের জোট না হয় বা তেলেঙ্গানা তে চন্দ্রশেখর রাওয়ের ভারতীয় রাষ্ট্রীয় সমিতির সঙ্গে কংগ্রেসের জোট না হয় সেক্ষেত্রে এই দুই রাজ্যে লড়াই হবে ত্রিমুখী। সেক্ষেত্রে অবশ্যই অ্যাডভান্টেজ বিজেপির। এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে স্টালিনের ডিএমকে, কুমারস্বামীর জেডিএস বা চন্দ্রশেখর রাওয়ের ভিআরএস- এর সঙ্গে বাম দলগুলি রয়েছে। ২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে বাম দলগুলি কংগ্রেসকে সামনে রেখেই বিজেপি বিরোধী জোটের পক্ষে।

আরও পড়ুন    এক ঘুষিতে কুপোকাত! বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে উজ্জ্বল দেশের সোনার মেয়েরা

এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধির সাংসদ পথ খারিজ নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা বাড়িয়েছে রাজধানীতে। একে কেন্দ্রের প্রতিহিংসামূলক আচরণ বলে সরব প্রায় সব বিরোধী দল। এমনকী রাহুল গান্ধির উপর এই ‘কোপ’ নেমে আসার পরপরই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকে সম্প্রতি ত্রিপুরা মেঘালয় বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত তৃণমূল ও কংগ্রেসের সম্পর্ক পৌঁছেছিল তলানিতে। যদিও এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতেও কংগ্রেসের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল তৃণমূল’কে। সোমবার,রাহুল ইস্যুতে কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ানোর রণকৌশল ঠিক করতে দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ডাকা বিরোধীদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। কালো ব্যাজ পরে সংসদ চত্বরে কংগ্রেসের সঙ্গে বিক্ষোভে শামিল হন সব বিরোধী দলের সাংসদরা।

জানা গিয়েছে, রাহুল গান্ধি নিয়ে কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াতেই বিরোধী ঐক্যে জোর দিচ্ছেন সোনিয়া-রাহুল। আর তাই সোমবার বিরোধীদের নিয়ে বৈঠকে আমন্ত্রিত তৃণমূলও। তৃণমূলের দুই সাংসদ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও জহর সরকার এদিনের বৈঠকে যোগ দেন। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তবে কি বরফ গলতে শুরু করেছে? এরপর জল্পনা বাড়িয়ে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলীয় সাংসদরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ চত্বরে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান অন্যান্য সমস্ত বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে। এখানেই রাহুল ইস্যুতে এভাবেই আরও একবার বিরোধী ঐক্যে শান দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কংগ্রেস। তেজস্বীর,লালুপ্রসাদ ও নীতিশ কুমার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়,অরবিন্দ কেজরিওয়াল,স্ট্যালিন,শারদ পাওয়ার,উদ্ধব ঠাকরে,কুমারস্বামী সহ বেশ কিছু বিজেপি বিরোধী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হবার কাজ আগেও করেছেন। এখনও করছেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে বাম-কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই জোর করার চেষ্টা শুরু হয়েছিল। লোকসভা নির্বাচনের আগে পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন হবে। কংগ্রেসকে এই পরিস্থিতি ধরে রাখতে গেলে, আগামী দিনে বিজেপির বিরুদ্ধে যেখানে আঞ্চলিক দল শক্তিশালী সেখানে তাঁদেরকে চালকের আসন ছেড়ে দিতে হবে।

আরও পড়ুন    উদ্বেগ! ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনা গ্রাফ

এদিনও অবশ্য রাহুল ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব ছিল গেরুয়া শিবির। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা ভোপালের সভা থেকে বলেন,“মহাত্মা গান্ধি সত্যাগ্রহ করেছিলেন দেশ স্বাধীন করার লক্ষ্যে। আর আজ কংগ্রেস সত্যাগ্রহ করছে রাহুল গান্ধির জন্য। যিনি দলিতদের অপমান করেছেন।” তবে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে রাহুলের থেকেও ক্রমশ দড় বাড়ছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধির। ২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে তাই অনেকেই বাজি লাগাতে চাইছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধির উপর। রাজনৈতিক মহলের মতে একদিকে যেমন রাহুল আগামী ৬ বছর নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না ঠিক সেই সময় প্রিয়াঙ্কাকে সামনে আনলে বিজেপির ক্ষেত্রে নতুন করে রণকৌশল সাজাতে হবে। “পাপ্পু” বা এই ধরনের নিম্ন রুচির আক্রমণ করা থেকে বিজেপিকে বিরত থাকতে হবে। রাজনৈতিক মহলের ভিন্ন মতও আছে। অনেকে আবার মনে করছেন প্রিয়াঙ্কার সামনে এলে, রবার্ট বরদার দুর্নীতি ইস্যুকে হাতিয়ার করবে বিজেপি।

About Post Author