Home » গরু পাচারকাণ্ডে ফের সিউড়ি থানার আইসিকে তলব ইডি-র

গরু পাচারকাণ্ডে ফের সিউড়ি থানার আইসিকে তলব ইডি-র

সময় কলকাতা ডেস্ক,২৭মার্চঃ গরু পাচারকাণ্ডে সোমবার ফের সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলিকে তলব ইডি-র। সূত্রের খবর,বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি থাকার কারণে মহম্মদ আলিকে ফের তলব করা হয়েছে। এর আগে গরু পাচার মামলায় সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলিকে শনিবার দু’দফায় প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে তাঁকে ম্যারাথন জেরা করে ইডি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত প্রায় দশটা নাগাদ ইডির অফিস থেকে বেরোন তিনি। ইডি-র দাবি, পাচারকারীদের সাহায্যের জন্য মোটা অঙ্কের ‘প্রোটেকশন মানি’ পেতেন সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলি। এমনকী তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বেশ কিছু সম্পত্তির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। কার্যত সেকারণেই তাঁকে দিল্লিতে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা।

আরও পড়ুন   উদ্বেগ! ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনা গ্রাফ

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে,গরু পাচার চক্রের সঙ্গে যে মোটা অঙ্কের কালো টাকা জড়িয়ে রয়েছে,সেই কালো টাকা কীভাবে সাদা করা হত, তা জানতেই ফের তলব করা হয়েছে। এই গরু পাচারের টাকা কোন পথে ঘোরানো হত, কোন সংস্থায় কত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে,কার নির্দেশ মতো এই টাকা বিনিয়োগ হয়েছে, সেইসব বিষয়ে জানতেই শনিবার সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ শেখ আলিকে তলব করা হয়েছিল বলেই সূত্রের খবর।


উল্লেখ্য, কয়লা ও গরু– জোড়া পাচার মামলাতেই জড়িত সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলি। অনুব্রত মণ্ডল, সায়গল হোসেনের এই অবৈধ পাচার প্রক্রিয়ায় মোটা টাকার বিনিময়ে তিনি চুপ করে থাকতেন, এই অভিযোগ উঠেছে মহম্মদ আলির বিরুদ্ধে। ইডি সূত্রে খবর, গত কয়েকমাসে অনুব্রত মণ্ডলের মামলা চালানোর খরচও জুগিয়েছিলেন বীরভূমের সিউড়ি থানার আইসি মহম্মদ আলি। কিছুদিন আগেই কয়লা পাচার কাণ্ডে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল। সেসময় তিনি হাজিরাও দিয়েছিলেন। এদিকে, বৃহস্পতিবারই গরু পাচারকাণ্ডে আসানসোল সংশোধনাগারের সুপারেনটেনডেন্ট কৃপাময় নন্দীকে তলব করেছে ইডি। আগামী ৫ এপ্রিল তাঁকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। সূত্রের খবর,ই-মেল মারফত আসানসোল সংশোধনাগারের সুপারেনটেনডেন্টকে দিল্লিতে ইডির সদর দফতরে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্রের খবর,অনুব্রত মণ্ডল যে সময় আসানসোল জেলে ছিলেন, সেই সময়ের কী কী ঘটেছিল, সেসব নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হতে পারে।

আরও পড়ুন  রাহুল গান্ধির সাংসদ পদ বাতিলের জের, কালো পোশাক পরে সংসদে বিক্ষোভ

প্রসঙ্গত,গরুপাচার মামলায় ইতিমিধ্যেই দিল্লির তিহার জেলে ঠাঁই হয়েছে বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের তাঁকে ১৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। গরু পাচারকাণ্ডের তদন্তে গত ৭ মার্চ অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে গিয়েছিলেন ইডি। তারপর থেকে ইডি হেফাজতেই ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। এই একই মামলায় গ্রেফতারির পর তিহাড় জেলে বন্দি রয়েছেন অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেন ও হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিও। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত অনুব্রতকে ৩ এপ্রিল ফের আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ দিয়েছে। সূত্রের খবর,ওই দিনই অনুব্রতর সঙ্গে তাঁর হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিকেও আদালতে পেশ করা হবে।

About Post Author