সানি রায়, সময় কলকাতা, ১৮ জুন : প্রচলিত প্রবাদ “সর্প হইয়া দংশন কর, ওঝা হইয়া ঝাড়।” তবে উত্তরবঙ্গের এক ঘটনা প্রবাদের চেয়ে সামান্য স্বতন্ত্র এবং নৃশংস। অভিযোগ, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের এক ওঝা এমন ঝাড় দিয়েছেন রোগীকে যে সর্পবিষ না থাকলেও তার ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যায় । এক্ষেত্রে এপিলেপটিক বা স্নায়ুদৌর্বল্য জনিত খিঁচুনি রোগে আক্রান্ত রোগীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঝার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ঝাড়ফুঁকের নামে অসহনীয় নির্যাতন এবং ওঝার বেতের ঘায়ে রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার দুই।
রাজগঞ্জে মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনায় আদতে কী ঘটেছে? জানা গিয়েছে, মৃতের নাম ক্ষিতেন রায় (৫৫), তিনি ফাটাপুকুরের ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল ওঝা দিলীপ বসুনিয়া এবং তার শিষ্যা পূজা রায়কে গ্রেপ্তার করেছে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ। অভিযুক্ত দিলীপ সুখানি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহেবপাড়ার বাসিন্দা এবং পূজা পানিকৌরি গ্রাম পঞ্চায়েতের মগরাডাঙ্গি খালপাড়ার বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ক্ষিতেনবাবু দীর্ঘদিন ধরে খিঁচুনি রোগে ভুগছিলেন। প্রথমে তাকে রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতাল ও পরে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাড়ি ফেরেন। তবে সম্প্রতি আবারও তার খিঁচুনি দেখা দিলে পরিবারের লোকজন তন্ত্রবিদ্যা জানা পূজা রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, গত দুই দিন আগে পূজার কথামতো ক্ষিতেনবাবুকে প্রথমে তার বাড়ি এবং পরে পূজার ‘গুরু’ দিলীপ বসুনিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কালী মন্দিরের সামনে ঝাড়ফুঁকের নামে বেতের লাঠি দিয়ে ক্ষিতেনবাবুকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মারধরের চোটে তিনি সেখানেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ি ফিরিয়ে আনার পর পূজাও তাদের বাড়ি গিয়ে পুনরায় ঝাড়ফুঁক করেন। অবশেষে ক্ষিতেন রায়ের মৃত্যু হয়। মৃতের ভাই গৌরীকিশোর রায় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান যে, নির্মম মারধরের কারণেই তার দাদার মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।।


More Stories
সাষ্টাঙ্গে নত হয়ে ক্ষমাস্বীকার, মুখ্যমন্ত্রীর নামে কুরুচিকর পোস্ট করার জন্য শাস্তিবিধান!
জামাইষষ্ঠীর নতুন অতিথি,গাছ থেকে আম পেড়ে খেল হাতি
ভূত আছে, ভূত নেই! দিন-দুপুরে স্কুলে ভূতের ভয়