সময় কলকাতা ডেস্ক,৩ এপ্রিলঃ পঞ্চায়েত ভোটের আগে ফের জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার চারদিনের সফরে পূর্ব মেদিনীপুরে যাচ্ছেন মমতা৷ সোমবারই খেজুরি ১ নম্বর ব্লকের ঠাকুরনগর শ্রীকৃষ্ণ মেলা প্রাঙ্গণে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি৷ চার দিনের পূর্ব মেদিনীপুর সফরের সূচিতে এখনও পর্যন্ত নন্দীগ্রাম নেই। নন্দীগ্রাম থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে খেজুরিতে তিনি প্রশাসনিক সভা করবেন। এ নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে তৃণমূলে, রাজনৈতিক মহলেও৷ প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার সরকারি অনুষ্ঠান থেকে ৪৬৫ কোটি টাকার পরিষেবা প্রদান করবেন মুখ্যমন্ত্রী৷ জেলার ২ লাখ ৯৮ হাজার মানুষ এদিন বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, খেজুরিতে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও পড়ুন আদিবাসী গ্রাম্যসংস্কৃতির নিদর্শন দাতাবাবার উৎসব
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খেজুরি এবং তার পার্শ্ববর্তী নন্দীগ্রাম ও ভগবানপুর বিধানসভায় হেরে গিয়েছিল তৃণমূল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সেখানকার মানুষদের পাশে থাকার বার্তার দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ খেজুরির সভার পর দিঘায় চলে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। ৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার দিঘার হেলিপ্যাড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক কর্মীসভা রয়েছে৷ ৫ এপ্রিল অর্থাৎ বুধবার দিঘায় নির্মীয়মান জগন্নাথ মন্দিরের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। এরপর এদিন প্রশাসনিক স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকও করতে পারেন। জেলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এরপর ৬ এপ্রিল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কপ্টারে করে কলকাতায় ফিরবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ৫ তারিখ জনসংযোগের উপর বাড়তি জোর দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলতে পারেন মমতা। ২০২১-র ভোটে পরাজয়ের পর মমতার এই সফর থেকে দলীয় কর্মীরা আরও চাঙ্গা হবেন, এমনই ধারনা তৃণমূলের।করার জন্য ইচ্ছে করে বিজেপি এসব করছে।’

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দু্র্বল হয়ে পড়েছে দলের সংগঠন। অখিল গিরির পক্ষে অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধে ফাইট দেওয়া সম্ভব নয়। শেখ সুফিয়ান শুভেন্দু হীন হয়ে যাওয়ার পর থেকে অনেকটাই কার্যকারিতা হারিয়েছে। আর তাই পঞ্চায়েত ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুর নিয়ে যথেষ্টই কপাল চওড়া হচ্ছে তৃণমূল নেত্রীর। মাসখানেক আগে হলদিয়া ও কাঁথিতে সভা করেছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। এমনকি দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই জেলা নিয়ে। তাতেও বুথ স্তরে সেভাবে সাংগঠনিক শক্তি গড়ে তুলতে পারছে না রাজ্যের শাসক দল। ২০১৮ পঞ্চায়েত ভোটের সময় শুভেন্দু অধিকারী সহ গোটা অধিকারী পরিবার ছিল তৃণমূলে। যার ফলে ১৮ র পঞ্চায়েত ভোটে এই জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েতে ২১১ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ১৮৩টি আসন। বিজেপি পেয়েছিল ২১। অন্যান্যরা পেয়েছিল ৭ টি আসন। পঞ্চায়েত সমিতির ২১ টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস একাই পেয়েছিল ২০ টি আসন। ১ টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। জেলা পরিষদের ৫১ আসনই দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। যার বেশিরভাগই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বাম জামানায় ২০০৮-এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে থেকেই এই জেলায় ফল ভালো করতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস।


More Stories
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
রাজ্যসভায় নীতিশ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে এবার?
ময়নাগুড়িতে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২ তরুণী , আহত ৫