সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ এপ্রিল : আদিবাসীদের লোক-উৎসব ও গ্রাম্যসংস্কৃতি পশ্চিমবঙ্গে আজও বেঁচে আছে, আর তারই নিদর্শন প্রতিবারের মত এবারও মিলল পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি থানার খয়েরপুর তাঁতি বাকসা গ্রামে দাতাবাবার উৎসবে। দাতাবাবার উৎসব উপলক্ষ্যে তিনদিনের মেলা, ফুটবল প্রতিযোগিতা, আদিবাসী নৃত্য, তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা সহ আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এই মেলা যেন আধ্যাত্মিক ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধন, কারণ এখানে এসবের সাথে সাথে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ইসিজি, সুগারটেস্ট সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল । সেখানে ৫৫ জন রক্তদানও করেছেন, তার মধ্যে ৭৫ শতাংশ রক্তদাতা মহিলা। যেসব মহিলারা রক্তদানে অংশগ্রহন করেছেন তাদের প্রত্যেককে শাড়ি প্রদান ও কিছু পুরুষদের পোশাক প্রদান করা হয় সম্বর্ধনা হিসেবে ।

উৎসব উদযাপন হল মহা সাড়ম্বরে।স্বামী দিব্যাত্মানন্দ মহারাজ, চিন্ময়চৈতন্য মহারাজ, সমাজসেবী করুণাময় ব্যানার্জি, মেমারি থানার সাব ইন্সপেক্টর সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি,এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সমাজ সচেতনতামূলক বার্তা প্রদান করা হয় । কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মানুষকে আহ্বান জানানো হয়। এখনো পশ্চিমবঙ্গের অনেক গ্রাম এবং আদিবাসী সমাজ কুসংস্কারাছন্ন, তাই মানুষ বিভিন্ন সমস্যার মুখে পরে। দাতাবাবার উৎসবে ঘোষণা করা হয়, “শারীরিক কোন সমস্যা হলে ঠাকুরবাড়ি দেখাবার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, কাউকে কোন কারনে ডাইনি দোষারোপ করে গ্রাম ছাড়া করবেন না, গ্রামের সমস্যা হলে আপনাকে মেটাতে হবে তাতে আপনারই ভালো হবে”। এছাড়াও আরও ঘোষণা করা হয়, এই অনুষ্ঠান চলাকালীন মাদকজাত কোন দ্রব্য খাওয়া বা বিক্রয় করা চলবে না। অর্থাৎ এই উৎসবে মানুষ আনন্দ উপভোগ করার সাথে সাথে সচেতনতা মূলক বিভিন্ন বার্তাও পেয়ে থাকে। এ যেন এক বিজ্ঞান চেতনার মেলবন্ধন । এই মেলা ও উৎসবকে ঘিরে অনেক ভক্ত ও মানুষদের সমাগম ঘটে । বলাবাহুল্য,এই ধরনের উৎসব আধুনিক সময়ের প্রেক্ষাপটে গ্রাম্য সমাজে বা আদিবাসী সমাজে উল্লেখযোগ্যভাবে অন্যন্য ও উৎসাহমূলক ।।


More Stories
ডিএ এবং বেতনবৃদ্ধি, সরকারি কর্মীদের নিয়ে রাজ্য কী বলছে?
জামাইষষ্ঠীর নতুন অতিথি,গাছ থেকে আম পেড়ে খেল হাতি
বিয়ের গাড়ি সাজিয়ে গরুপাচারের ধুরন্ধর কায়দা ব্যর্থ