স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২৪ এপ্রিল: রবিবাসরীয় ইডেনে শুধুই মাহি-ময়। প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের জন্য ক্রিকেটের নন্দন কানন যে আবেগের জোয়ারে ভাসবে, তা আগেই টের পাওয়া গিয়েছিল। হলোও তাই। স্টেডিয়াম দেখে তখন বোঝা দায়, যে এটা কলকাতার ইডেন গার্ডেন নাকি চেন্নাইয়ের চিপক? হলুদ জার্সি, ধোনির মুখোশ, ধোনির নামে জয়ধ্বনি দখল নিয়েছিল ঐতিহ্যের ইডেনের। তখন হলুদ জার্সির ভিড়ে বেগুনি জার্সিদের খুঁজে বার করাই দুষ্কর। রবিবার মাঠের বাইরের লড়াইয়ে বেগুনি জার্সিধারীদের গুনে গুনে অন্তত ১০ গোল দিল হলুদ জার্সিধারীরা। এদিনও প্রথম একাদশে একাধিক বদল করল টিম ম্যানেজমেন্ট। চলতি আইপিএল মরশুমের নিজেদের সপ্তম ম্যাচে মাঠে নামল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্ত এখনও দলের সেরা একাদশে খোঁজ পেল না নাইট ম্যানেজমেন্ট। যা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

টসে জিতে চেন্নাইকে ব্যাটিং করতে পাঠান নাইট অধিনায়ক নীতিশ রানা। তবে অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তের প্রতি এদিন সুবিচার করতে ব্যর্থ নাইট বোলাররা। ম্যাচের শুরু থেকে চেন্নাইয়ের দাপুটে ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় মনে হচ্ছিল উমেশ, নারিনদের। এই ম্যাচে কেকেআরের প্রথম একাদশে সুযোগ পান ডেভিড ওয়াইসি। কিন্তু সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলেন না তিনি। চেন্নাইয়ের দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও রুতুরাজ গায়কোওয়াডকে এদিনও পাওয়া চেনা ছন্দে পাওয়া গেল। প্রথম উইকেটে ৭৩ রানের জুটি চেন্নাইয়ের বড় রানের ইনিংসের ভিতটি গড়ে দেয়। ২০ বলে ৩৫ রান করে ফেরেন রুতুরাজ। অষ্টম ওভারে চেন্নাই শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন সুয়াস শর্মা। তবে এটি যে কলকাতার জন্যই বড় ধাক্কা হবে কে জানত?

এরপর ব্যাট হাতে পুরনো দলের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন অজিঙ্ক রাহানে। যদিও কনওয়ে যতক্ষণ পিচে ছিলেন ততক্ষণ বিশেষ কিছু করতে হয়নি রাহানেকে। টানা চার ম্যাচে নিজের অর্ষশর্তরান সম্পন্ন করেন এই কিউয়ি ব্যাটার। ৪০ বলে ৫৬ রান করে কনওয়ে ডাগআউটে ফেরেন বরুণ চক্রবর্তীর বলে। তারপর শুরু হল রাহানে ও শিবম তাণ্ডব। নাইট বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করলেন এই দুই ব্যাটার। তাঁদের ৮৫ রানের জুটি চেন্নাইয়ের ইনিংসকে ২০০ রানে দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়। ২১ বলে ৫০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে কুলবন্ত খেজরলিয়ার বলে ফেরেন শিবম। ২৯ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন রাহানে। পাঁচ নম্বরে নেমে ৮ বলে ১৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন জাদেজা। তাঁকেও ফেরান কুলবন্ত। এরপর সেই মহেন্দ্রক্ষণ, ব্যাট হাতে মাঠে নামলেন ধোনি। যদিও মাত্র ৩ বলে জন্য। ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রানে শেষ হয় চেন্নাইয়ের ইনিংস। নাইটদের হয়ে দুটি উইকেট নেন কুলবন্ত খেজরলিয়া।

বিশাল রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় নাইটরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে বেশ বিপাকে পড়ে যায় তারা। প্রথম দুই ওভারে প্রথমে নারিন ও পরে জগদীশন ফিরে যান ডাগআউটে। নারিনকে ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কা দেন আকাশ সিং। জগদীশনকে ফেরান তুষার দেশপান্ডে। এনিয়ে সাত ম্যাচের মধ্যে এটা নাইটদের পঞ্চম ওপেনিং কম্বিনেশন। যাও এদিন ব্যর্থ হল। অধিনায়ক নীতিশ রানা ও ভেঙ্কটেশ আইয়ার শুরুটা ভালো করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। একটা সময় ৭০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বেশ বিপাকে পড়ে যায় নাইটরা। এরপর জেসন রয় ও রিঙ্কু সিংয়ের লড়াকু ব্যাটে ভর করে ঘুরে দাঁড়ায় আয়োজক দল।

২৮ বলে ৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রিঙ্কু সিং ও জেসন রয়। ১৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ব্রিটিশ ব্যাটার। ২৬ বলে ৬১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে জেসন ফিরতেই নাইটদের জয়ের আশাও কার্যত শেষ হয়ে যায়। এদিনও ব্যাট হাতে ব্যর্থ রাসেল। যদিও এদিন ব্যাট হাতে সফল রিঙ্কু সিং। ৩০ বলে অর্ধশতরান করেন উত্তরপ্রদেশের এই ক্রিকেটার। রিঙ্কু শেষ দিকে লড়াই চালালেও তা যথেষ্ট ছিল না। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রানে থামতে হয় নাইটদের। ২৯ বলে ৭১ রান করে এদিন ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন চেন্নাইয়ের অজিঙ্ক রাহানে।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার