Home » গরু পাচার মামলায় ধৃত অনুব্রত কন্যা সুকন্যার ঠাঁই মিলল তিহারে

গরু পাচার মামলায় ধৃত অনুব্রত কন্যা সুকন্যার ঠাঁই মিলল তিহারে

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩০ এপ্রিল: মিলল না স্বস্তি।  গরু পাচার মামলায় ধৃত অনুব্রত কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের ঠাঁইও তিহারেই। রবিবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত অনুব্রত কন্যাকে ১২ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তারপরেই প্রশ্ন ওঠে, এবার কি বাবার মতো মেয়েরও ঠাঁই তিহারেই? শেষ পর্যন্ত তিহারেই যেতে হচ্ছে সুকন্যাকে। নির্দেশনামা সামনে আসতেই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে যায়। উল্লেখ্য, আগে থেকেই এই জেলে রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। বুধবার বিকেলে পর গরু পাচার মামলায় সুকন্যাকে গ্রেফতার করে ইডি। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

রবিবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে শুনানি ছিল অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ে সুকন্যার। ভার্চুয়ালি শুনানি শেষে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। জানা গেছে, ইডি আর সুকন্যাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেনি। সূত্রের খবর, ইডি হেফাজতে থাকাকালীন ইডি অফিসারদের একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল সুকন্যাকে। তদন্তকারীদের প্রশ্নে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসারদের কাছে সুকন্যার আর্জি ছিল, বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হোক তাঁকে। শুধু তাই নয়, তিহাড়ে বাবার সঙ্গেও দেখা করতে চান সুকন্যা। এদিন আদালতের নির্দেশের পর সেই তিহাড়েই যাচ্ছেন সুকন্যা।

প্রসঙ্গত, গরু পাচার মামলায় গত বছরের আগস্টে বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন অনুব্রত মণ্ডল। আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগারের পর তাঁর বর্তমান ঠিকানা দিল্লি। গ্রেফতারির পর থেকে নামে বেনামে অনুব্রতর একাধিক সম্পত্তির হদিশ পান তদন্তকারীরা। সুকন্যার নামেও বহু সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। সুকন্যাকে জেরা করার জন্য এর আগেও তিন দফায় দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কিন্তু তিনবারই তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। বুধবার ফের তাঁকে তলব করা হয়েছিল। এদিন হাজিরা দিলেও ইডির একাধিক প্রশ্নের সদুত্তর তিনি দেননি বলে খবর ইডি সূত্র। জানা গিয়েছে, সুকন্যাকে তাঁর সম্পত্তি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু সব প্রশ্নেই তিনি বাবা অনুব্রত মণ্ডল বা হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারি জানেন বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রশ্নের সদুত্তর না পেয়েই শেষে সুকন্যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।

আরও পড়ুন   ভুয়ো কল,এসএমএস থেকে রেহাই দিতে এবার ট্রাই-এর নয়া উদ্যোগ

উল্লেখ্য,গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পরই অনুব্রতর সম্পত্তির খোঁজে তল্লাশি করতেই উঠে আসে তাঁর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলের নাম। তাঁর নামে একাধিক সম্পত্তি ও কোম্পানির হদিশ মেলে। এছাড়াও সামনে আসে বোলপুরে কোটি কোটি টাকার জমির পাশাপাশি তৃণমূল নেতার একাধিক রাইস মিলের একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। পেশায় একজন শিক্ষিকা হয়ে কি করে এত সম্পত্তির মালিক হলেন সুকন্যা, তা জানতেই অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির পর সুকন্যাকে দিল্লিতে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। কিন্তু সেসময় তিনি জানিয়েছিলেন, এই সব বিষয়ে বিস্তারিত  তথ্য তাঁর বাবা ও হিসাবরক্ষকের কাছেই রয়েছে।

About Post Author