Home » কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে ধৃতদের ১৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ রায়গঞ্জ জেলা আদালতের

কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে ধৃতদের ১৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ রায়গঞ্জ জেলা আদালতের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ এপ্রিল: গত কয়েকদিন ধরে কালিয়াগঞ্জে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। থানা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। যা ঠেকাতে পারেনি পুলিশ। আবার পুলিশের গুলিতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এইসব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। জেলা থেকে কলকাতার রাজপথে আন্দোলনের আঁচ পড়ে। এবার কালিয়াগঞ্জ থানায় অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনায় ধৃত ১৯ জনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে রায়গঞ্জ জেলা আদালত। ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় দায়ের হয়েছে অভিযোগ। ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের ১৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান সরকার পক্ষের আইনজীবী।

আরও পড়ুন    কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

ইতিমধ্যেই কালিয়াগঞ্জে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বদলি করা হয়েছে,কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দীপাঞ্জন দাসকে। দীর্ঘ টালবাহানার পর তাঁকে বদলি করা হল। কালিয়াগঞ্জ ইস্যুতে ব্যাকফুটে পুলিশ। তার জেরে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে রাজ্য সরকারের। এই পরিস্থিতিকে কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দীপাঞ্জন দাসকে বদলি করে পাঠানো হল শিলিগুড়ি জিআরপি থানায়। শুক্রবারই কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দীপাঞ্জন দাসকে বদল করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি জিআরপির ইনস্পেক্টর সুবলচন্দ্র ঘোষকে নিয়ে আসা হল কালিয়াগঞ্জ থানার আইসির দায়িত্বে।

এদিকে,কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে শুক্রবার রাজ্য সরকারের তিন কর্তাকে দিল্লিতে তলব করল জাতীয় তফসিলি কমিশন। রাজ্য সরকারের ওই তিন কর্তাকে ২৮ এপ্রিল অর্থাৎ আজকের মধ্যে হাজিরার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অরুণ হালদার জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের আইজি, উত্তর দিনাজপুরের এসপি, জেলাশাসক এদিনের মধ্যে হাজিরা না দিলে তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এদিকে বৃহস্পতিবারই কালিয়াগঞ্জে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগের মামলায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, মঙ্গলবারের মধ্যে কালিয়াগঞ্জ কাণ্ডের রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্যকে। শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্তের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশও দেন বিচারপতির রাজাশেখর মান্থা। বুধবারই সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে বুধবার হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন মৃতার বাবা।

আরও পড়ুন   বদলি করা হল কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দীপাঞ্জন দাসকে

বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, ২০ এপ্রিল নাবালিকাকে খুন করে ধর্ষণ করা হয়। পুলিশ তার দেহ নৃশংসভাবে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেছে। এমনকী ময়নাতদন্তের রিপোর্টও পরিবারকে দেওয়া হয়নি। এরপর রাজ্য পুলিশের ওপর কোনও ভরসা নেই। পাল্টা রাজ্য সরকার পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে আদালতে। রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয়, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গেছে নাবালিকার শরীরে বিষ ছিল। তবে ধর্ষণের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এদিনের শুনানি শেষে বিচারপতি মান্থা বলেন, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করতে হবে রাজ্য পুলিশকে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে বাড়ির কাছে একটি পুকুর পাড় থেকে এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ,তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। রাস্তা দিয়ে টেনে হিঁচড়ে কিশোরীর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় তেতে ওঠে কালিয়াগঞ্জ। দফায় দফায় চলে পথ অবরোধ। অশান্ত হয়ে ওঠে কালিয়াগঞ্জ-দুর্গাপুর জাতীয় সড়ক। জনতার রোষের মুখে পড়েন পুলিশকর্মীরা। বেপরোয়া ইটবৃষ্টি শুরু হয় পুলিশকে লক্ষ্য করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা লাঠি চালায় পুলিশ। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল। তুঙ্গে ওঠে কেন্দ্র-রাজ্য তরজাও।

About Post Author