Home » মহারাষ্ট্রে বজায় থাকবে শিন্ডে সরকার

মহারাষ্ট্রে বজায় থাকবে শিন্ডে সরকার

সময় কলকাতা ডেস্ক,১১ মে: মহারাষ্ট্রে বহাল থাকলো ‘বিদ্রোহী’ একনাথ শিন্ডে সরকার।উদ্ধব ঠাকরেদের দায়ের করা মামলার এদিন চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলনা। তা বৃহত্তর বেঞ্চের দিকে ঠেলে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, আপাতত স্থিতাবস্থা থাকবে। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে জোট সরকারের পতন নিয়ে রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির ভূমিকাকে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতি তাঁদের রায়ে এদিন বলেছেন, রাজ্যপাল যেভাবে অনাস্থা ভোট ডেকে দিয়েছিলেন, তার কোনও যুক্তিই ছিল না। ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে শাসক দলের হাতেগোনা কিছু বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করা, অনাস্থা ভোট ডাকার জন্য যথেষ্ট কারণ নয়। অর্থাৎ একনাথ শিন্ডে সরকার বহাল থাকবে। কারণ, উদ্ধব ঠাকরে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি যদি ইস্তফা না দিয়ে দিতেন তা হলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে ফের বসানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ করতে পারত সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু তিনি ইস্তফা দিয়ে দেওয়ায় তা আর সম্ভব নয়।

গত বছর জুন মাসে মহারাষ্ট্রে ক্ষমতাবদলের টানটান নাটকের সাক্ষী ছিল গোটা দেশ। এক বছরও হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর গদি পেয়েছেন ‘বিদ্রোহী’ একনাথ শিন্ডে। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে গদি নিয়ে টানাটানি। এবার মুখ্যমন্ত্রীর গদি টিকবে কি না, তা নিয়েই চিন্তায় পরে যান একনাথ শিন্ডে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে অগ্নিপরীক্ষার মুখে পরেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। শিবসেনার অন্তর্দ্বন্দ্ব ও তার জেরে দলত্যাগ করে বিজেপির সঙ্গে জোট তৈরি করা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ছিল এদিন সুপ্রিম কোর্টে। শিবসেনার ৪০ জন বিধায়ককে নিয়ে বেরিয়ে এসে বিজেপির সঙ্গে  জোট বেঁধে সরকার গঠনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ‘বিদ্রোহী’ একনাথ শিন্ডে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত দলত্যাগ বিরোধী কার্যকলাপ ছিল কি না, তারই বিচার হবার কথা ছিল শীর্ষ আদালতে।

গত জুন মাসে উদ্ধব ঠাকরে শিবির থেকে তৎকালীন পূর্তমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে-সহ ১৬ জন বিধায়ক দলত্যাগ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন লাগু হবে কি না তা নিয়েই মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। দলত্যাগ আইন প্রণনয়ে স্পিকার ভূমিকা, সরকার বদলের সময় গভর্নরের ভূমিকাও এদিন আতস কাঁচের নিচে থাকে শীর্ষ আদালতে। গত বছর জুন মাসে একের পর এক শিবসেনা বিধায়ক ঠাকরে শিবির ছেড়ে শিণ্ডে শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন। সে সময় আস্থাভোটে যাননি উদ্ধব। তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।

আরও পড়ুন  কালিয়াগঞ্জে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সিট গঠন করল কলকাতা হাইকোর্ট

ঠাকরে যেহেতু আস্থাভোটের আগেই পদত্যাগ করেছিলেন, তাই সেই অবস্থা পুনরুদ্ধার করা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে সম্ভব নয় বলে বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। দলত্যাগ করে অন্য শিবিরে গেলে জনপ্রতিনিধিদের উপর দলত্যাগী আইন প্রণোয়নের বিষয়টি এ দিন উত্থাপিত হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে উঠে আসে ২০১৬ সালে অরুণাচল প্রদেশে ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে ‘নাবাম রেবিয়া বনাম ডেপুটি স্পিকার’ মামলার প্রসঙ্গ। স্পিকারের ভূমিকার বিষয়টি নিয়ে লার্ডার বেঞ্চে আলোচনার জন্য পাঠিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।

About Post Author