Home » এবার আইপিএলে মোহিত করছেন মোহিত শর্মা

এবার আইপিএলে মোহিত করছেন মোহিত শর্মা

পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা , ১৮ মে : ‘এভাবেও ফিরে আসা যায়’ কথাটি যতই ক্লিশে হয়ে উঠুক মোহিত শর্মার ক্ষেত্রে এই কথাটি ব্যবহার না করে উপায় নেই। ভারতীয় ক্রিকেটে কাম ব্যাক ম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন মহিন্দার অমরনাথ। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি ও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছিলেন ভারতীয় দলে ।প্রাক্তন জাতীয় দলের পেসার মোহিত মহিপাল শর্মা ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করবেন কিনা কারও জানা নেই। কিন্তু করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।তবে আইপিএলে কামব্যাক তিনি করেছেন। আইপিএলে দুবছর না থাকলেও ২০২৩ সালে রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়েছেন পেস বোলার হিসেবে।গতবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন গুজরাট টাইটান্সের অশ্বমেধের ঘোড়া এবারও ছুটছে।গুজরাটের সাফল্যের পেছনে অনেকের মত বড় অবদান মোহিত শর্মার। তাঁর কামব্যাকের রসায়ন কী?

গত বছর আইপিএলে সুযোগ না পেয়ে গুজরাট টাইটান্স দলের নেট বোলার হিসেবে মোহিত শর্মাকে দেখা গিয়েছিল। এতে ক্রিকেটপ্রেমীরা হতাশ হলেও তিনি নেটেও নতুন করে নিজেকে তৈরি করেছেন।তিনি মনে করেন যে,তিনি শিখে চলেছেন, এমনকী নেট বোলার হিসেবেও শিখেছেন। তিনি আরও বলছেন, আজও তিনি নিজেকে বিগিনার বা শিক্ষার্থী মনে করেন।

জাতীয় দলের হয়ে শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছে ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে। টেস্ট দলে কখনও ভাবা হয় নি ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ পেসার কপিলদেবের রাজ্য হরিয়ানার এই বোলারকে ।দশ বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছিলেন মোহিত। ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এক দিবসীয় ম্যাচে অভিষেক লগ্নে ঐতিহাসিক কাণ্ড ঘটান মোহিত। ২৪ বছরের মোহিত ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট পেয়ে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন।ভারতীয়দের মধ্যে ব্যাটসম্যান সন্দীপ পাতিল ছাড়া এমন নজির আর ছিল না ।সেই থেকে ২৬ টি একদিনের ম্যাচে ৩১ উইকেট পান মোহিত। পাশাপাশি বাংলাদেশে হওয়া টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পান। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই নজর কাড়েন তিনি। বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ভারতীয় দলেও ছিলেন তিনি। ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারত হেরে গেলেও ২ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ১ টি উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।শ্রীলঙ্কা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই তাঁর প্রথম বলেই কুশল পেরেরাকে আউট করে আশা জাগিয়েছিলেন মোহিত। সেই মোহিত আচমকাই যেন হারিয়ে যান । আট বছর জাতীয় দলে নেই। তবে কিছু বিষয় প্রমাণ করার জন্য এবার আইপিএলকে তিনি বেছে নিয়েছেন। বেছে নিয়েছেন বোঝানোর জন্য।

আইপিএলে আজিঙ্কা রাহানে বা পীযুষ চাওলার প্রত্যাবর্তন মাথায় রেখেও বলতে হবে পুরো ভোল পাল্টে এভাবে কাউকে আইপিএলে ফিরতে দেখা যায় নি।নিঃসন্দেহে মোহিত শর্মা এবারের আইপিএলের সবচেয়ে বড় সারপ্রাইস প্যাকেজ। আইপিএলের বিগত দুটি সিজনে দল না পেলেও এবার নামেমাত্র বেসপ্রাইজে গুজরাট দল তাঁকে নেয়। ১৩ টি ম্যাচের ১০ টি ম্যাচে সুযোগ পাওয়ার পরে তিনি হয়ে উঠেছেন গুজরাট দলে অপরিহার্য। প্রায় ৩৫ বছর বয়স হতে চলেছে। কিন্তু এজ ইস নাথিং বাট এ নাম্বার কথাটি কতটা সত্যি বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাঁর প্রতিটি ডেলিভারিতে। গতি তাঁর অস্ত্র নয়। তবুও স্লোয়ার, ইন কাটার, অফ কাটার মিশিয়ে বলে এমন বৈচিত্র্য আনছেন বিপক্ষ ব্যাটসম্যান হদিশ পাচ্ছেন না তাঁর বলের কারিকুরির। কে বলবে ২০২০ সালের আইপিএলে দিল্লির হয়ে একটি ম্যাচ খেলে পরের দুটো মরশুমে সুযোগ পান নি তিনি। কোনও ফ্রেঞ্চাইসি ডাকে নি তাঁকে!

দিল্লির হয়ে ২০২০ সালের আইপিএলে তাঁর একমাত্র ম্যাচে চার ওভারে ৪৫ রান দিয়ে একটি উইকেট পেয়েছিলেন মোহিত।তার আগের বছরে চেন্নাই সুপার কিংস ৫ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিল তাঁকে। সেবার ও একটি ম্যাচ সুযোগ পেয়েছিলেন মোহিত। খারাপ বল করেন নি সে ম্যাচে। তিন ওভারে ২৭ রান দিয়ে একটি উইকেট পান মোহিত। তারও আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে পাঞ্জাবের হয়ে অবশ্য ৯ ম্যাচে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন মোহিত। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ইকোনমিক বোলিং তিনি করেন না তিনি। রান দেন বড্ড বেশি। পাঞ্জাবে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা অকশন মানি পাওয়ার পরে চেন্নাইয়ের প্রথম একাদশে বিশেষ সুযোগ না পাওয়ায় তাঁর নিলামে মূল্য কমে এবং অবশেষে দিল্লি দলে এসে সেখানেও খেলার সুযোগ না পেয়ে ব্রাত্য হয়ে যান তিনি। কিন্তু যে মাটি ধরে মানুষ পড়ে সেই মাটি ধরেই ওঠে।

২ বছর প্রায় নীরবে লোকচক্ষুর আড়ালে নিরলস চৰ্চা করেছেন মোহিত।বোলিংয়ে এনেছেন আশ্চর্য বৈচিত্র্য। যে দলের নেটে বল করেছেন গতবছর, সেই গুজরাট টাইটান্স ৫০ লক্ষ টাকায় এই মরশুমে তাকে কিনেছে।তাঁর বোলিং এতটাই কার্যকরী মনে হয় গুজরাট থিঙ্ক ট্যাঙ্কের কাছে যে শিবম মাভির মত প্রতিশ্রুতিমানকে বাইরে রেখে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হতে থাকে ।অর্থাৎ পুরোনো চাল ভাতে বাড়ছে।

গুজরাটের বোলিং কোচ হিসেবে প্রাক্তন ভারতীয় পেসার আশিস নেহেরা কে কাছে পেয়ে আরও সমৃদ্ধ হয়েছেন মোহিত। দশটি ম্যাচে দুবার চার উইকেট পেয়েছেন মোট শিকার ১৭ টি। মনে রাখতে হবে ১০ টি ম্যাচের তিনটি ম্যাচে সেভাবে বল করতে হয় নি তাঁকে। তাঁর বলে রান ও উঠছে না।ওভার পিছু রান দিয়েছেন সাতের বেশি। প্রবীণ পেসারের এহেন উত্তরণ অভাবনীয়। তিনি প্রমাণ করছেন তিনি হারিয়ে যান নি। তিনি বোঝাচ্ছেন তাঁকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয় নি। এখনও সুযোগ পেলে তিনি যে পুরোনো বলেও জাদু দেখাতে পারেন তা তিনি বোঝাচ্ছেন আর বোঝাচ্ছেন ফর্ম ইস টেম্পোরারি, ক্লাস ইস পার্মানেন্ট।।

আরও পড়ুন : দিল্লি ক্যাপিটালস জিতল, আরও জটিল শেষ চারের অঙ্ক

About Post Author