Home » বজবজে বিস্ফোরণের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

বজবজে বিস্ফোরণের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ মে: এগরার পর বজবজ। বজবজে বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের জেরে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন নাবালিকা-সহ ৩ জন। বজবজের নন্দরামপুর দাসপাড়ার এই ঘটনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শুরু রাজনৈতিক তরজা। এবার রাজ্যের বেআইনি বাজি কারখানাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শাসকদলকে তোপ দেগে বিস্ফোরক টুইটটি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গে বিস্ফোরণকাণ্ডের সঙ্গে তিনি তুলনা করেছেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের! টুইটে বিরোধী দলনেতা, এক বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের মাটিতে রাশিয়া যে পরিমাণ বোমাবর্ষণ করেছে, ওই সময়ে বাংলায় তার চেয়ে বেশি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি এই ঘটনায় তিনি এনআইএ তদন্তের দাবি তুলেছেন। বজবজের দাসপাড়ায় রাতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের পর সোমবার সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবেই চাপা উত্তেজনা সেখানে। সকাল থেকেই এলাকায় বিস্ফোরকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ।

আরও পড়ুন    এগরার পর বজবজ! বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ঝলসে মৃত ৩

উল্লেখ্য,এগরার খাদিকুল গ্রামে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বজবজে বাজির গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বেআইনি বাজি কারখানার গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন। জানা গিয়েছে, বজবজ চিংড়িপোতা নন্দরামপুর দাসপাড়ায় অবস্থিত একটি বাড়িতে চলত ওই কারখানা। রবিবার রাত আটটা নাগাদ গোটা বাড়ি আচমকাই কেঁপে ওঠে। বিকট শব্দে ভয় পেয়ে যান এলাকাবাসীরা। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মহিলা, একজন নাবালিকা ও একজন শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে,এই ঘটনার পর থেকেই থমথমে বজবজের চিংড়িপোতা গ্রাম। তুবড়ি, চকলেট, চরকা, রকেট, সেল, তারাবাতি, রংমশাল সহ প্রচুর মশলা উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রামের মহিলাদের দাবি, ‘ স্থানীয় পুলিশ সবকিছুই জানি। ওই গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িতেই বাজি তৈরি হয় এবং অধিকাংশ জনেরই লাইসেন্স নেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় সূত্রের খবর, যে বাড়িটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার উপরের তলায় কাজ হচ্ছিল। বেআইনি ভাবে বাজি মজুতও ছিল সেখানে। হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে পাশের পুকুর থেকে জল তুলে তুলে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন প্রতিবেশীরা। পরে দমকল পৌঁছলেও সরু গলিতে ঢুকতে সমস্যা হয়। বাড়িটিতে দীর্ঘদিন ধরে বাজি তৈরির কাজ চলত বলেই স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ, ঘরে ঘরে কুটিরশিল্পের মতো বহু মানুষ সপরিবার বাজি বানান বেআইনি ভাবে এবং বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। প্রশাসন এ সবকিছুই জানে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে ওই বাড়িটিতেও তেমনটাই বাজি তৈরির কাজ চলছিল।ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আতসবাজির চিহ্ন মিলেছে।

About Post Author