সময় কলকাতা ডেস্ক,২৬ মেঃ দেশের নয়া সংসদ ভবন উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে আমন্ত্রণ না করা নিয়ে বিতর্কের জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলাও করা হয়েছিল। তবে সেই জনস্বার্থ মামলা শুক্রবার খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বদলে যাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে দিয়ে যাতে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করানো হয়, সেই আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন আইনজীবী জয়া সুকিন। মামালাকারী আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে তাঁকে ‘অপমান’ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার ও লোকসভার সচিবালয়।
আরও পড়ুন দেশের নয়া সংসদ ভবনের উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখতে ৭৫ টাকার কয়েন আনছে কেন্দ্র
তবে সেই মামলা এদিন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। মামলাকারী আইনজীবী জয়া সুকিনের আবেদন ছিল, ১৮ মে লোকসভার সচিবালয় থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল এবং লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল যে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন উদ্বোধন নিয়ে, তাতে সংবিধান বহির্ভূত। দেশের প্রথম নাগরিক হিসেবে সংসদের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অস্বীকার করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট যাতে হস্তক্ষেপ করে, সেই আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার আইনজীবী জয়া সুকিন শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করার আমন্ত্রণ জানিয়ে আইন ভেঙেছে লোকসভার সচিবালয়। আইনজীবীর দাবি, ভারতীয় সংবিধানের ৭৯ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে দেশের সংসদ গঠিত হয়েছে রাষ্ট্রপতি, রাজ্যসভা এবং লোকসভা নিয়ে। যেহেতু রাষ্ট্রপতি সংসদের শীর্ষাসনে, তাই নয়া ভবন উদ্বোধন হওয়া উচিত তাঁর হাতেই। এক্ষেত্রে লোকসভার সচিবালয় নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণই জানায়নি। যা সংবিধান বিরোধী। আগামী ২৮ মে রবিবার উদ্বোধন হবে সংসদের নতুন ভবনের। তবে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। যদিও বিরোধীদের দাবি, দেশের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করা উচিত রাষ্ট্রপতিরই।
আরও পড়ুন মালদায় শুভেন্দু অধিকারীর সভার অনুমতি দিল না কলকাতা হাই কোর্ট

অন্যদিকে, রবিবারই নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের কথা ঘোষণা করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ১৯টি দল। ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, যেভাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সাইডলাইনে রেখে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই করবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে তা শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, চূড়ান্ত স্বৈরাচারী। উল্লেখ্য, সংবিধানের ৮৫, ৮৬ এবং ৮৭ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন ডাকবেন, মুলতবি করবেন এবং লোকসভা ভেঙে দিতেও পারবেন। এছাড়া সংসদের যে কোনও সভা বা যৌথ সভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে পারবেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া বিল, অধ্যাদেশ আইনি স্বীকৃতি পায় না। রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিয়ে তাই নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অসাংবিধানিক বলে মত বিরোধীদের। আগামী ২৮ মে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন। বয়কট ঘোষণার পাশাপাশি তৃণমূল দাবি তুলেছে, রাষ্ট্রপতিকে দিয়েই সংসদ ভবনের উদ্বোধন করাতে হবে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?