সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ মে: দেশের নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখতে বড় উদ্যোগ কেন্দ্রের। এবার বাজারে আসতে চলেছে ৭৫ টাকার বিশেষ কয়েন। নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই কেন্দ্রের তরফে ৭৫ টাকার কয়েন প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে এমনটাই জানালেন দেশের অর্থ মন্ত্রক। একইসঙ্গে জানা গিয়েছে স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি উদযাপন করতেই এই কয়েন বাজারে আনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি মিলল না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দেশের অর্থ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে,৭৫ টাকার কয়েনটি ৪৪ মিলিমিটার ব্যাস সহ বৃত্তাকার আকারের হবে। কয়েনের কিনারা বরাবর ২০০টি সেরেশন থাকবে। ৩৫ গ্রামের মুদ্রাটি চার-অংশের শংকর ধাতু দিয়ে তৈরি করা হবে। যার মধ্যে ৫০% রুপো, ৪০% তামা, ৫% নিকেল এবং ৫% দস্তা থাকবে। অন্যদিকে, ৭৫ টাকার কয়েনের একটি পিঠে থাকবে অশোক স্তম্ভের লায়ন ক্যাপিটাল। নীচে লেখা থাকবে, “সত্যমেব জয়তে। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সংখ্যায় ৭৫-এর মূল্যও লেখা থাকবে। আর কয়েনের বাঁদিকে দেবনগরি হরফে লেখা থাকবে, “ভারত।” ডান দিকে ইংরাজিতে লেখা থাকবে, “ইন্ডিয়া-র।” কয়েনে থাকবে রুপির প্রতীকও। কয়েনের অপর পিঠে থাকবে সংসদ ভবনের ছবি। তার নীচে দেবনগরী হরফে লেখা থাকবে “সংসদ সংকুল”, আর উপরে ইংরেজিতে লেখা থাকবে “পার্লামেন্ট কমপ্লেক্স”।

এদিকে, দেশের নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন করা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। বৃহস্পতিবার জয়া সুকিন নামের এক আইনজীবী শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করার আমন্ত্রণ জানিয়ে আইন ভেঙেছে লোকসভার সচিবালয়। আইনজীবীর দাবি, ভারতীয় সংবিধানের ৭৯ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে দেশের সংসদ গঠিত হয়েছে রাষ্ট্রপতি, রাজ্যসভা এবং লোকসভা নিয়ে। যেহেতু রাষ্ট্রপতি সংসদের শীর্ষাসনে, তাই নয়া ভবন উদ্বোধন হওয়া উচিত তাঁর হাতেই। এক্ষেত্রে লোকসভার সচিবালয় নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণই জানায়নি। যা সংবিধান বিরোধী। আগামী ২৮ মে রবিবার উদ্বোধন হবে সংসদের নতুন ভবনের। তবে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। বিরোধীদের দাবি, দেশের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করা উচিত রাষ্ট্রপতিরই।
আরও পড়ুন মালদায় শুভেন্দু অধিকারীর সভার অনুমতি দিল না কলকাতা হাই কোর্ট

অন্যদিকে, রবিবারই নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠান বয়কটের কথা ঘোষণা করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ১৯টি দল। ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট লেখা হয়েছে, যেভাবে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে সাইডলাইনে রেখে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই করবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে তা শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, চূড়ান্ত স্বৈরাচারী। উল্লেখ্য, সংবিধানের ৮৫, ৮৬ এবং ৮৭ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন ডাকবেন, মুলতবি করবেন এবং লোকসভা ভেঙে দিতেও পারবেন। এছাড়া সংসদের যে কোনও সভা বা যৌথ সভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে পারবেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া বিল, অধ্যাদেশ আইনি স্বীকৃতি পায় না। রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিয়ে তাই নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন অসাংবিধানিক বলে মত বিরোধীদের। আগামী ২৮ মে নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধন। বয়কট ঘোষণার পাশাপাশি তৃণমূল দাবি তুলেছে, রাষ্ট্রপতিকে দিয়েই সংসদ ভবনের উদ্বোধন করাতে হবে।


More Stories
জামাইকার বিরুদ্ধে লড়াই করে হারল ভারত
নাবালিকা ধ*র্ষণ-হ*ত্যার ঘটনায় পুলিশের হাসিঠাট্টা
আবার বাড়ল পেট্রোল, ডিজেলের দাম