সময় কলকাতা ডেস্ক,২ জুনঃ মণিপুরের অশান্তিতে মদতের অভিযোগ। সরিয়ে দেওয়া হল মণিপুর পুলিশের ডিজিকে। মণিপুর পুলিশের ডিজি ছিলেন পি ডাইঙ্গেল। তাঁর জায়গায় দিল্লি থেকে পাঠানো হল রাজীব সিংহকে। তিনি আধা সেনা সিআরপিএফের দিল্লির সদর দফতরে আইজি হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। উত্তরভারতীয় এই অফিসার আদতে ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস। অর্থাৎ মণিপুরের নতুন ডিজি না রাজ্যের বাসিন্দা, না রাজ্য ক্যাডারের অফিসার। বর্তমান ডিজি ডাইঙ্গেলকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের অতিরিক্ত সচিব পদে বদলি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে মণিপুরে চারদিনের সফর শেষ করে দিল্লি ফিরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মণিপুর পুলিশের ডিজি বদলে দিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

উল্লেখ্য,গত প্রায় একমাসেরও বেশি সময় ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মণিপুরে। সংঘর্ষের জেরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন রাজ্যের বহু বাসিন্দা। কার্ফু জারি রয়েছে একাধিক শহরে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যেই শান্তি ফেরাতে জরুরি বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৩ দিনের মণিপুর সফরে মঙ্গলবার সেখানেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন রাজ্য সরকারের সঙ্গে। সেখানে অমিত শাহ বলেছেন, এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য যে কোনও মূল্যে মণিপুরে ক্ষোভের আগুন নিভিয়ে শান্তি ফেরানো। প্রশাসন সেটাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এছাড়া মণিপুরে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফেরাতে এবং রাজ্যে শান্তি বিঘ্নিত করে এমন কোনও কার্যকলাপ কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর পাশাপাশি মণিপুর হিংসায় নিহতদের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অমিত শাহ। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে এই ক্ষতিপূরণ দেবে।
আরও পড়ুন কলকাতা সহ জেলায় জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা

জানা গিয়েছে, নিহতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়াও, পরিবারের একজনের চাকরির ব্যবস্থাও করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং ও অমিত শাহের বৈঠকে এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অমিত শাহ মণিপুর পুলিশ, সিএপিএফ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। এরপরই ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়াও সেই বৈঠকে পেট্রোল, এলপিজি গ্যাস, চাল এবং অন্যান্য খাদ্য পণ্যের জোগান যাতে যথেষ্ট পরিমাণে থাকে এবং দাম কমানো হয়, তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে শাহের সফরের মধ্যেই পুনেতে এক অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার সেনাধ্যক্ষ অর্থাৎ চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ অনিল চৌহান জানান, মণিপুরের পরিস্থিতি শান্ত হতে সময় লাগবে। সেনা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাছে। মণিপুরে বর্তমানে ১৪০ কলম অর্থাৎ ১৪ হাজার সেনা জওয়ান মোতায়েন আছে। এছাড়া অসম রাইফেলসের বেশ কিছু ব্যাটেলিয়ন মোতায়েন আছে রাজ্যে।

আরও পড়ুন কলকাতা সহ জেলায় জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা
প্রসঙ্গত, শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ফের নতুন করে মণিপুরে হিংসা ছড়িয়েছে। প্রাণ গিয়েছে একজনের। এই নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি ভাবে পৌঁছল ৭৩-এ। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মণিপুরে অশান্তি চলছে। এর মূলে রয়েছে মেটেই জনজাতির সঙ্গে আদিবাসীদের সংঘাত। মণিপুরের মেইতেই জনজাতিকে তফসিলি উপজাতির তকমা দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। মণিপুরের বিজেপি সরকার সেই দাবি মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাতেই ক্ষুব্ধ কুকি-সহ অধিকাংশ আদিবাসী সংগঠন। তাদের বক্তব্য, মেইতেইরাও যদি তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি পেয়ে যায়, তাহলে আদিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। তাছাড়া, মণিপুরের বিজেপি সরকার স্থানীয় বনাঞ্চলগুলিতে সমীক্ষা চালাচ্ছে। আদিবাসীদের আশঙ্কা, সরকার এবার বনভূমি ধ্বংস করতে চলেছে।


More Stories
দিল্লি গেলেন অভিষেক
ঔদ্ধত্য,দাম্ভিকতা,অহংকার এবং দুর্নীতিকে মদত -নাম না করে মমতাকে বেনজির আক্রমণ শান্তনু সেনের
শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ