Home » পার্থর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র, দাবি বিরোধীদের

পার্থর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র, দাবি বিরোধীদের

সময় কলকাতা ডেস্ক,২ জুনঃ শুক্রবার ফের একবার কেন্দ্রীয় সরকারের জোকা ইএসআই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আনা হলো সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু কে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সল্টলেক সিজিও কমপ্লেক্সে। নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’র গ্রেফতারির পর শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। বিরোধীদের অনেকেই বলছেন, পার্থর গ্রেফতারির থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই কাকুর গ্রেফতারি। আর এরই মধ্যে বুধবার আদালতে বিস্ফোরক দাবি ইডির। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাহুল বেরা নামে এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাডমিট কার্ড, নথি, ছবি-সহ অনেক তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আর এই নির্দেশ দিয়েছিলেন কালীঘাটের কাকু।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের কাকুর বেহালার বাড়ি, অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যেদিন এই তল্লাশি চলছিল, সেদিন আবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কালীঘাটের কাকুর বাড়ি ও অফিস থেকে ইডি বেরিয়েছিল ১৬ ঘণ্টা পর। জানা গিয়েছিল, প্রচুর নথি নাকি নিয়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, সেই নথির ভিত্তিতেই কালীঘাটের কাকুকে গত ৩০ মে তলব করা হয়েছিল ইডি দফতরে। শেষ পর্যন্ত টানা ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর ইডির হাতে ওইদিন গ্রেফতার হন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেফতারি অনেকখানি তাৎপর্যপূর্ণ। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অভিষেকের অফিসের কর্মচারী। তার উপর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সুপ্রিম কোর্টেও রক্ষাকবচ পাননি। স্বাভাবিকভাবেই, তদন্তের গতি প্রকৃতির ওপর নজর থাকবে প্রত্যেকেরই।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। লিপস অ্যান্ড বাউন্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর এএমডি পোস্টে ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কোম্পানিরই ডিরেক্টরস বোর্ডের একটি তালিকায় নাম ছিল সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের। কিন্তু,লোকসভা ভোটের আগেই এই কোম্পানি থেকে ইস্তফা দেন কালীঘাটের কাকু। প্রাথমিক তদন্তে ইডি-র অনুমান,কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরপথে কালো টাকা সাদা করত।

আরও পড়ুন    এই তারকা ডিফেন্ডারকে ছেড়ে দিল বেঙ্গালুরু এফসি,তাঁকে পেতে ঝাঁপাবে কলকাতার দুই প্রধান?

ইতিমধ্যেই কালীঘাটের কাকুর একাধিক কোম্পানির যোগ সূত্র প্রকাশ্যে এসেছে। তার মধ্যে তিনি যে কোম্পানির হয়ে কাজ করতেন সেই লিপস অ্যান্ড বাউন্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর ডিরেক্টরস বোর্ডের একটি তালিকা টুইট করেও বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের গ্রেফতারির নেপথ্যে বড়সড় চক্রান্তের দাবি করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি টুইটে লেখেন, “বায়রন তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেস, সিপিএম, বিজেপি জোট ধাক্কা খেয়েছিল। সেই রাগে এবং নিজেদের ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতে দিনভর নাটকের পর রাতের উপসংহার নয় তো? তিন দলের উল্লাস দেখে সেটাই তো মনে হচ্ছে।” একই দাবি করেছেন জয়প্রকাশ মজুমদারও। অর্থাৎ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের গ্রেফতারির নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।

About Post Author