সময় কলকাতা ডেস্ক,১৯ জুলাই: ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তা চলবে ১১ আগস্ট পর্যন্ত। আর এই বাদল অধিবেশনে হিংসায় জর্জরিত মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে বলেই জানিয়েছে কেন্দ্র। বাদল অধিবেশনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এরপরই লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা জানিয়েছে মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে মোদি সরকার প্রস্তুত। এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল,রাজনাথ সিং, কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ, প্রমোদ তিওয়ারি, অনুপ্রিয়া প্যাটেল, সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব, এসটি হাসান, এআইএডিএমকের থাম্বি দুরাই, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের এডি সিং, আরএসপির এনকে প্রেমচাঁদ-সহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা।
আরও পড়ুন হিংসা বিধ্বস্ত মণিপুরে পৌঁছলেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল

এদিকে মণিপুরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বুধবার মণিপুর গিয়েছে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে দলে রয়েছেন ৫ সাংসদ, ডেরেক ও’ ব্রায়েন, দোলা সেন, সুস্মিতা দেব, কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার অভিযোগে যখন দিল্লি থেকে বাংলায় আসছে বিজেপির প্রতিনিধি দল, তখন মণিপুরে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম পাঠাচ্ছে তৃণমূল। মণিপুরে গত কয়েক মাস ধরেই কুকি ও মেইতেই মধ্যে গোষ্ঠী সংঘর্ষ চলছে। ঘরছাড়া প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। এখনও তা থামেনি। বরং দিনের পর দিন অশান্তির মাত্রা বেড়েই চলেছে। এবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি। জানা গিয়েছে,তাঁরা মণিপুরে থাকবেন এবং হিংসা বিধ্বস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখবেন৷

উল্লেখ্য,মণিপুরে সংঘর্ষের কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪৫জনের প্রাণ গিয়েছে। আহত অসংখ্য। এলাকা ছাড়া প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। প্রাণ রক্ষায় আশপাশের রাজ্যে পালিয়েছে বহু পরিবার। হিংসার আগুনে পুড়েছে প্রায় ২৫০টি গির্জা এবং ১৭টি মন্দির। এহেন পরিস্থিতিতে মণিপুর নিয়ে লাগাতার আক্রমণের পর গত বুধবার মুখ খোলেন স্বয়ং সনিয়া গান্ধি। ভিডিও বার্তায় সরকারের কঠোর নিন্দা করেন। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই সরব উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যটির অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর নীরবতায় বারে বারে সরব হয়েছিলেন তিনি। মণিপুরে জাতিদাঙ্গার কারণে চলছে মৃত্যু মিছিল। কয়েক হাজার মানুষ পরিবার নিয়ে ঘর ছাড়া। এই পরিস্থিতিতে যখন নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তখন প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন সফরের মধ্যে মণিপুর নিয়ে বিবৃতি দেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি।


More Stories
কার্যত ভুল স্বীকার করে নিলেন অভিষেক, সুর নরম কল্যাণের, অভিষেক – কল্যাণ বিবাদ মিটল!
“কংগ্রেসের হাত-ছাড়া ভুল ছিল”, বিস্ফোরক অনুব্রত দুষছেন আইপ্যাককে
কীর্তি আজাদ “এনডিএ-র ষড়যন্ত্র” নিয়ে সরব