Home » সঙ্কটজনক অবস্থায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য,ডানদিকের ফুসফুসে সংক্রমণের মাত্রা অনেকটাই বেশি

সঙ্কটজনক অবস্থায় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য,ডানদিকের ফুসফুসে সংক্রমণের মাত্রা অনেকটাই বেশি

সময় কলকাতা ডেস্ক,৩১ জুলাইঃ এখনও সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।ফুসফুসে সংক্রমণ থাকায় তাঁকে দেওয়া হচ্ছে হাইডোজের অ্যান্টিবায়োটিক। ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক রয়েছে,জ্বরও কমেছে। নতুন করে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি আর হয়নি বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর। সোমবার সকালেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চেস্টে সিটি স্ক্যান করানো হয়েছে। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে জানা গিয়েছে, বুদ্ধবাবুর ফুসফুসের দু’দিকেই সংক্রমণ রয়েছে। তবে বাঁদিকের তুলনায় ডানদিকের ফুসফুসে সংক্রমণের মাত্রা বেশি। এদিন দুপুর সাড়ে ১২ টা নাগাদ মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকের পরই জানা যাবে ভেন্টিলেশন থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে বের করা যাবে নাকি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে,ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অনেকটাই কমেছে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবুর শরীরে ক্লেবশিয়েলা নামের মারণ ব্যাক্টেরিয়ার খোঁজ মিলেছে। যার কারণে ফুসফুসের দু’দিকেই আক্রমণ করেছে নিউমোনিয়া। ফুসফুসের সংক্রমণ কমাতে হাই ডোজের একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক চলছে। সব মিলিয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর শারীরিক অবস্থা এখনও উদ্বেগজনক বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রাইলস টিউবে দেওয়া হচ্ছে তরল খাবার। আইসিইউ-তে থাকলেও বুদ্ধবাবুর ঘুমের ওষুধ বন্ধ করা হয়েছে। শরীরে জলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি রক্তের পরীক্ষা পুনরায় করে সেই রিপোর্ট দেখে ভেন্টিলেশনে রাখা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ফুসফুসে জমে থাকা কফ বের করতে শনিবার রাতেই নেবুলাইজেশন করা হয়েছে। কী ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ জানতে ইতিমধ্যেই রক্তপরীক্ষা করা হয়েছে।

আরও  পড়ুন     এখনও সঙ্কটজনক বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, থাকতে হবে ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনেই

প্রসঙ্গত,শনিবার বুদ্ধবাবুর শারীরিক অবস্থার খবর পেতেই বিকেল ৪টে ২০ মিনিটে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পাম এভিনিউয়ের বাড়িতে। মেডিক্যাল অফিসার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সে করে পাম এভিনেউয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে নিয়ে আসেন ওই বেসরকারি হাসপাতালে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর রক্তে অক্সিজেন বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে গিয়েছিল বলেই সূত্রের খবর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,২০১৮ সাল থেকে বাড়িতেই একটি পোর্টেবল অক্সিজেন সিলিন্ডারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা শ্বাসপ্রশ্বাস নেন তিনি। এই অবস্থায় বুধবার থেকে নিউমোনিয়া সংক্রণে আক্রান্ত হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সিওপিডির সমস্যাও রয়েছে বুদ্ধবাবুর। তাই বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। শনিবার তাঁর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছিল অ্যান্টিবায়োটিক। এরপর অক্সিজেন মাত্রা ৭০ এ নেমে যাওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন গ্রিন করিডর করে দ্রুত গতিতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু রাস্তাতেই তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে যায়।

About Post Author