Home » ডার্বির আগে স্বস্তির মোহনবাগান শিবিরে, পঞ্জাবকে ২-০ গোলে হারাল সবুজমেরুন

ডার্বির আগে স্বস্তির মোহনবাগান শিবিরে, পঞ্জাবকে ২-০ গোলে হারাল সবুজমেরুন

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৮ অগস্ট: বর্ষার কিশোর ভারতীতে পাঞ্জাব এফসি-কে হারিয়ে স্বস্তির হাওয়া মোহনবাগান শিবিরে। খেলার ফল ২-০। প্রথমটি আত্মঘাতী। দ্বিতীয় গোলটি করেন হুগো বুমোস। এই জয়ের ফলে গ্রুপের শীর্ষে চলে গেল মোহনবাগান। ফলে আগামী শনিবার কলকাতা ডার্বির আগে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে গেল তারা। ডুরান্ড কাপে পাল তুলে ছুটছে নৌকো। ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে, রিজার্ভ দল নিয়ে বাংলাদেশ আর্মিকে মালা পরিয়েছিল সবুজ মেরুন ব্রিগেড। ফলে অনেকটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে সোমবার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে পঞ্জাব এফসির মুখোমুখি হয় জুয়ান ফেরান্দোর দল। ডুরান্ড কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রিজার্ভ ও জুনিয়র দলের সঙ্গে তিনজন প্রথম দলের ফুটবলারকে মাঠে নামালেও, এদিন প্রথম দলের একাধিক ফুটবলারকে মাঠে নামিয়ে দেন মোহন কোচ। এই ম্যাচেই সবুজ মেরুন জার্সিতে অভিষেক হয় নতুন ডিফেন্ডার আনোয়ার আলির।

আরও পড়ুন   মার্কিন লিগে মেসি ম্যাজিক, ৩ গোলে পিছিয়ে সমতায় ফিরল মায়ামি

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ আর্মিকে অনায়াসে হারলেও, এই ম্যাচে মোহনবাগানকে ভালো মত টক্কর দেয় সদ্য ইন্ডিয়ান সুপার লিগে খেলার ছাড়পত্র অর্জন করা পঞ্জাব এফসি। যদিও ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলের লড়াইয়ে পঞ্জাবকে টেক্কা দেয় বাগান শিবির। ম্যাচের ২৩ মিনিটে মোহনবাগান চাপের কাছে হার স্বীকার করে পঞ্জাব। ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে উঠে বক্সে সেন্টার করেন মানবীর। সেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন পঞ্জাবের ডিফেন্ডার মেলরয়। অপ্রত্যাশিত গোল হজম করে দমে যায়নি স্টেকোস ভাজেটিসের ছেলেরা। মোহনবাগান রক্ষণকে বারবার কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেন তাঁরা। যদিও সতর্ক মোহনবাগান রক্ষণ দুর্গ অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়। প্রথমার্ধে মোহনবাগানের সামনে আরও গোলের সুযোগ এলেও স্কোরবোর্ড পরিবর্তন হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ফের গোলের খাতা খোলে মোহনবাগান। এবার পঞ্জাব গোলরক্ষকের ভুলে ব্যবধান বাড়ায় বাগান। কোলাসো ও পেত্রাতোস নিজেদের মধ্যে পাস খেলে বিপক্ষের বক্সের কাছে পৌঁছে যায়, সেখান থেকে বক্সে ক্রস করেন কোলাসো। পঞ্জাবের গোলরক্ষক চেষ্টা করেও বল তালুবন্দি করতে পারেননি। ফিরতি বলে টোকা মেরে বল জালে জড়ান হুগো বুমো। এই মরশুমে প্রথমবার বাগানের হয়ে মাঠে নামলেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার। এরপরেই গোলের সুযোগ তৈরি করে পঞ্জাব। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন খুয়ান মেরার শট সামাল দেন মোহন গোলরক্ষক বিশাল। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় পঞ্জাবের ফুটবলাররা। তবে ব্যবধান কমাতে পারেননি। পরপর দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পেয়েই মরশুমের প্রথম ডার্বিতে মাঠে নামতে চলেছে মোহনবাগান।

আরও পড়ুন    এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গোলের বন্যা ভারতের

যদিও ডার্বি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ নেই মোহনবাগান কোচের। এদিন ম্যাচ শেষে তিনি বলেন,‘দলের জয়ে খুশি। শুধু ডার্বি নয়, সামনে এএফসি কাপের ম্যাচও রয়েছে। তার জন্য আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।’ মোহনবাগান কোচ যখন ডার্বিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ তখন প্রতিপক্ষকে মেপে নিতে কিশোর ভারতীতে হাজির হয়েছিলেন ফেরান্দোর স্বদেশীয় ইস্টবেঙ্গলের নতুন হেড কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। বিপক্ষের ফুটবলারদের মেপে নিলেন তিনি। কারণ ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম কোচ জানেন এই ম্যাচের গুরুত্ব। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে জয় যে অনেক সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেবে তা অজানা নয় এই বিদেশী কোচের। এখন ডুরান্ডের মেগা ম্যাচে দুই স্প্যানিশশের মস্তিষ্কের লড়াইয়ে কে কাকে টেক্কা দেবে? সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা দিন।

About Post Author