সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ আগস্ট: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সোমবারই মুর্শিদাবাদের চার শিক্ষক গ্রেফতার হতেই রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার কোচবিহারের প্রাথমিকের ৩০ জন শিক্ষককে নিজাম প্যালেসে তলব করে সিবিআই। তাঁদের নিয়োগের সময় অর্থনৈতিক লেনদেন হয়েছিল কিনা,তা জানতেই বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট, জাতি শংসাপত্র ইত্যাদি নথি নিয়ে তাঁদের নিজাম প্যালেসে আসতে বলা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছেও ওই ৩০ জন শিক্ষকের বিষয়ে সমস্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই এবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিলিগুড়ির ২২ জন প্রাথমিক শিক্ষককে নিজাম প্যালেসে তলব করল সিবিআই। সূত্রের খবর, ২০১৪ সালের প্রাথমিক নিয়োগে টাকার বিনিময়ে কোথায় কোথায় চাকরি বিক্রি হয়েছে, সেই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতেই বিভিন্ন জেলার শিক্ষকদের তলব করছেন সিবিআই আধিকারিকরা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের গ্রেফতারির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কোনও শিক্ষককে এর আগে গ্রেফতার হয়নি। এই প্রথমবার ‘অযোগ্য’ শিক্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবারই আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয় মুর্শিদাবাদের ‘অযোগ্য’ চারজন শিক্ষককে। তদন্তের ভিত্তিতেই জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ওই চার শিক্ষক ঘুষের টাকা দেন নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত তাপস মণ্ডলকে। তদন্তকারীদের ধারণা, বিভিন্ন কলেজগুলিতে চাকরিপ্রার্থীদের খুঁজে টোপ ফেলতেন দালালেরা। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চলত বেআইনি নিয়োগ। গ্রেফতার হওয়া ওই চার শিক্ষকের থেকে কীভাবে টাকা তাপস মণ্ডলের কাছে পৌঁছত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্বেই সিবিআই ও ইডি দাবি করেছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়-মানিক ভট্টাচার্যদের জুটি টাকা দিয়ে হাজার হাজার চাকরি বিক্রি করেছে। এবং এভাবে চাকরি বিক্রি করে তাঁরা কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলেছিলেন। সিবিআই আগেই দাবি করছিল যে, একাধিক প্রার্থীর বয়ান থেকে তাপসের টাকার লেনদেন প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কে কাকে টাকা দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। এদিন আদালতে সিবিআই তদন্তকারীরা যে নথি পেশ করেন, তাতে ওই চার শিক্ষকের নাম ছিল এবং নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ওই চার শিক্ষক টাকা দিয়ে চাকরি কেনে। ঘুষের টাকা তাঁরা দেন তাপস মণ্ডলকে।
আরও পড়ুন কলকাতা পুলিশের আওতায় এল ভাঙড়, থাকছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট

প্রসঙ্গত,নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বারাসাতেও তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা। এরপরই বারাসতে কামাখ্যা মন্দিরের কাছে মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ একটি টিচার্স ট্রেনিং সেটারের কর্ণধার তাপস মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের একটি বড় দল। প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে তাপস মণ্ডল প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত রয়েছে বলেই ইডি সূত্রের খবর। জানা গিয়েছিল,মানিক ভট্টাচার্যকে জেরা করে তাঁর বাড়ি থেকে যেসব কাগজপত্র উদ্ধার হয়েছে তা থেকেই এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। তবে শুধু এই ট্রেনিং সেন্টারই নয়,এরকমই বেশ কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টার নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই সব ট্রেনিং সেন্টারই মিডলম্যানের কাজ করত।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী