Home » অন্ধ্রপ্রদেশে পড়তে গিয়ে বাংলার পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু, সিআইডি তদন্তের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

অন্ধ্রপ্রদেশে পড়তে গিয়ে বাংলার পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু, সিআইডি তদন্তের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ আগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল রাজ্য। পড়ুয়া মৃত্যুকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারই মধ্যে এবার অন্ধ্রপ্রদেশে পড়তে গিয়ে হস্টেলে কলকাতার এক পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু। খুনের অভিযোগে সরব ওই পড়ুয়ার পরিবার। মৃত ওই পড়ুয়ার নাম রীতি সাহা। জানা গিয়েছে, বছর ষোলোর ওই পড়ুয়া বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলেন। নিটের প্রস্তুতি নিতে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের একটি প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয় সে। এরপরই বিশাখাপত্তনমে চলে যায় টালিগঞ্জের ওই ছাত্রী। গত এক বছর ধরে সেখানেই রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ জুলাই রাত ১১ নাগাদ হস্টেলের সুপার ওই পড়ুয়ার বাবাকে ফোন করে জানায়, ৪ তলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছে তাঁর মেয়ে। পরের দিন সকাল না হতেই তড়িঘড়ি বিশাখাপত্তনমে যান পড়ুয়ার বাবা-মা।

এরপর ১৬ জুলাই হাসপাতালে মৃত্যু হয় মেয়ের। মৃতার বাবা জানিয়েছে, প্রথমে যখন তাঁদের মেয়েকে ভিডিও কলে দেখানো হয়, তখন সে সুস্থই ছিল। কিন্তু হস্টেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্য দু’দিনের মধ্যে মৃত্যু হয় তাঁদের মেয়ের। তাঁর অভিযোগ, মেয়ের উপযুক্ত চিকিৎসা করানো হয়নি। হাসপাতালে কার্যত ফেলে রাখা হয়েছিল। এমনকী হস্টেল কর্তৃপক্ষের তরফে প্রথমে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে মেনে নেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয়। মৃত পড়ুয়ার পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়েকে কোনও আক্রোশের জেরে খুন করা হয়েছে। কেননা হস্টেল থেকে ৮ ফুট দূরত্বে দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাহলে কীভাবে আত্মহত্যা বলা হচ্ছে? মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রীতি সাহার পরিবার।

আরও পড়ুন        ফের চিটফান্ডের ছায়া, কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রতারণা

এদিকে, এই ঘটনার খবর চাউর হতেই রবিবার মৃত ছাত্রীর টালিগঞ্জের বাড়িতে যান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এই ঘটনায় সিআইডিকে দিয়ে তদন্ত করানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এদিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ফোন থেকেই রীতির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত বিচারের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তাঁরা। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফে রীতির পরিবারকে সবরকম সাহায্যের কথা জানানো হয়েছে। এদিন দুপুরে রীতির বাড়িতে যান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীও।

About Post Author