Home » যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ আগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। তদন্তে নেমে একের পর এক তথ্য উঠে আসছে পুলিশের হাতে। যাদবপুর পড়ুয়ার মৃত্যুকাণ্ডে এই নিয়ে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। রবিবার রাজ্য সরকারের ভর্ৎসনা করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যকে অবশ্যই মানতে হবে হাইকোর্টের নির্দেশ। কোনও ছাত্রের ব়্যাগিং করার অধিকার কারোর নেই।’ যদিও যাদবপুরে প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। এই ঘটনার পরই রাজ্য-রাজনীতিতে শুরু হয় জোর চর্চা। এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। এরকম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্রেরই ব়্যাগিং করার অধিকার নেই। র‍্যাগিং রুখতে আর.কে রাঘবন কমিটি, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট, ইউজিসি কারও নির্দেশই মানেনি রাজ্য। রাজ্য সরকারের অবশ্যই হাইকোর্টের নির্দেশ মানা উচিত। এটা ওদের দায়িত্ব।’


এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই অ্যান্টি  র‍্যাগিং কমিটির সুপারিশ কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবী সায়ন বন্দোপাধ্যায়। আইনজীবীর সেই আবেদনেই কার্যত সায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ। র‍্যাগিংয়ের বিরোধিতায় জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আবেদন জমও পড়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, র‍্যাগিংয়ের বিরোধিতায় সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে আর.কে রাঘবন কমিটি যে গাইডলাইন তৈরি করেছে, তা প্রয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাক্তন কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি তৈরি করে গাইডলাইন কার্যকরের কথাও জানানো হয়েছে। মামলাকারীর মতে, অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটির সুপারিশ হলে কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংয়ের দাপট কমবে।

আরও পড়ুন          পুলিশকে হোস্টেলে ঢুকতে বাধা, যাদবপুর কাণ্ডে ধৃত আরও এক, ধৃত প্রাক্তনী জয়দীপ

উল্লেখ্য,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় হস্টেলের প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরীকে ব়্যাগিংয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল আগেই। রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে মনোতোষ এবং দীপশেখর নামের আরও দুই ছাত্রকে। সেই দীপশেখর দত্তর আইনজীবীও ধৃত সৌরভ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব়্যাগিংয়ের অভিযোগ তুললেন! তাঁর দাবি, সৌরভ দীপশেখরকেও র্যা গিং করেছে। দীপশেখর নিজেও ব়্যাগিং-এর শিকার। জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার বাসিন্দা দীপশেখর দত্ত, অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং হুগলির বাসিন্দা মনোতোষ ঘোষ, সমাজবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত সৌরভকে জেরা করেই মনোতোষ ও দীপশেখরের নাম উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, এই মনোতোষের ঘরেই ‘গেস্ট’ হিসেবে মৃত ওই পড়ুয়াকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও এফআইআরে জানিয়েছিলেন মৃত পড়ুয়ার বাবা রমাপ্রসাদ কুণ্ডু। রবিবারই মনোতোষ ও দীপশেখরকে আদালতে তোলা হলে দুই ছাত্রের তরফেই আদালতকে বলা হয়, তাঁদের নামে কোন এফআইআরে নেই। তাহলে কীভাবে তাঁদেরকে হত্যার মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে? এই ঘটনায় অনেকেই জড়িত। অনেকের বয়ানেই ব়্যাগিংয়ের কথা জানা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে এমন অত্যাচার চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। এরপরেই সৌরভের মতো ধৃত দুই ছাত্র দীপশেখর এবং মনোতোষকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

About Post Author