স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৩ সেপ্টেম্বর: ডুরান্ড কাপের রং সবুজ মেরুন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ১৩২ তম ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ১-০ গোলে জিতল মোহনবাগান। ম্যাচে মোহনবাগানের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন অস্ট্রেলিয়ার ফরওয়ার্ড দিমিত্রি পেত্রাতোস। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মোহনবাগান মিডফিল্ড জেনারেল অনিরুদ্ধ থাপা। তবুও ১০ জনের মোহনবাগানকে পেয়েও ম্যাচ জিততে পারল না কার্লেস কুয়াদ্রাতের ছেলেরা। এনিয়ে মোট ১৭ বারের জন্য ডুরান্ড কাপ জিতল তাঁরা।

এশিয়ার সব থেকে প্রাচীন ফুটবল প্রতিযোগিতা ডুরান্ড কাপ। ১৮৮৮ সালে যেই প্রতিযোগিতার পথ চলা শুরু হয়েছিল। সেই ঐতিহ্যের ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। দক্ষিণ এশিয়ার ক্লাব ফুটবলের সব থেকে বড় ডার্বি। ফলে ম্যাচ নিয়ে একটা আলাদা উন্মাদনা সমর্থকদের মধ্যে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। ‘সুপার সানডে’ কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সেই উন্মাদনার উত্তাপ পাওয়া গেল। দুই দলের সমর্থকরা কাতারে কাতারে ভিড় জমিয়েছিলেন যুবভারতীতে। আট থেকে আশি প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটাতে উপস্থিত সকলে। লাল, হলুদ, সবুজ আবিরে যেন অকাল বসন্ত।

২০১২ সালে শেষবার কোনও সর্বভারতীয় ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। শেষ চার বছর ইন্ডিয়ান সুপার লিগে থাকতে হয়েছে লিগ তালিকার নিচের দিকে। জিততে ভুলে যাওয়া দলটার মানসিকতা বদলে দিয়েছেন লাল হলুদের নতুন হেডস্যার কার্লেস কুয়াদ্রাত। চার বছর পর চলতি ডুরান্ড কাপেই মোহনবাগানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিল কার্লেসের শিষ্যরা। রবিবারও সেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল দিয়েই শুরু করে লাল হলুদ। তুলনায় অনেক ছন্নছাড়া সবুজ মেরুন ব্রিগেড। দলে এত তারকা তবুও দলের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট। প্রথমার্ধের নিরিখে ইস্টবেঙ্গল অনেক ইতিবাচক ফুটবল উপহার দিল। যদিও ম্যাচে প্রথম সুযোগ তৈরি করে সবুজ মেরুন। আশিস রাইয়ের ক্রস ঠিকভাবে পায়ে সংযোগ করতে পারলে ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষককে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারতেন।
আরও পড়ুন ভারত-পাক মহারণের দিন ঠিক হয়ে গেল বিশ্বকাপের দল! কারা রইলেন? কারা বাদ পড়লেন?
যদিও বল বারের অনেকটা উপর দিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে। প্রথমার্ধের শেষের দিকে সহজ সুযোগ পায় লাল হলুদ। রাকিপের থেকে বল পেয়ে সেন্টার করেন বোরহা হেরেরা। হেড করে গোল করতে পারেননি জ্যাভিয়ের সিভেরিও। ফিরতি বলে শট নেন নন্দ কুমার, তবে গোলের খাতা খুলতে পারেননি। হাইভোল্টেজ ম্যাচের উত্তেজনা এদিন টের পাওয়া গেল ফুটবলারদের মধ্যে। প্রথমার্ধে সাদিকুকে ফাউল করেন বোরহা। টেনেহিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেন। বোরহাকে পাল্টা ধাক্কা মারেন হুগো। শুরু হয় দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে ঝামেলা। হলুদ কার্ড দেখিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন ম্যাচের রেফারি রাহুল গুপ্তা। এদিন প্রথমার্ধে অনেকবার পকেট থেকে কার্ড বার করতে হয় তাঁকে। প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখেন বাগানের অনিরুদ্ধ থাপাও। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে পেত্রাতোসের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগানের খেলা ছিল অনেক ছন্দবদ্ধ। ৫৬ মিনিটে পরিবর্ত হিসেবে নামা মনবীরের ক্রস থেকে সহজ সুযোগ পেয়ে যান হুগো। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। প্রতি আক্রমণ পাল্টা মোহন বক্সে হানা দিচ্ছিল লাল হলুদ ফুটবলাররা। ৬০ মিনিটের মাথায় ধাক্কা খায় মোহনবাগান। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে সিভেরিয়োর মুখে পা তুলে দেন অনিরুদ্ধ। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, ও লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। প্রবল চাপে পড়ে যায় মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গল গ্যালারিতে তখন শুরু হয়ে গিয়েছে বিজয় উল্লাস।

এরপর তিনটি পরিবর্তন করেন মোহন কোচ বুমো, আশিককে তুলে নামান লিস্টন ও জেসন কামিংসকে। ম্যাচের ৭০ মিনিটে সবাইকে চমকে দিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। মাঝমাঠ থেকে বল ধরে একক দক্ষতায় এগিয়ে গিয়ে বাঁ পায়ের আড়াআড়ি শটে ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। এগিয়ে যায় মোহনবাগান। এরপর লিস্টনের পাস থেকে ব্যবধান বাড়াতে পারতেন জেসন কামিংস। কিন্তু সুযোগ নষ্ট করেন। শেষ দিকে ব্র্যান্ডন হ্যমিলকে নামিয়ে দেন জুয়ান ফেরান্দো। রক্ষণে লোক বাড়িয়ে ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয় মোহনবাগান। শেষ ৩০ মিনিট ১০ জনের মোহনবাগানকে পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেবার জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। ১৯ বছর পর সেই ম্যাচের শোধ নিল মোহনবাগান।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার