সময় কলকাতা ডেস্ক : হিন্দি সিনেমায় প্রায়ই দেখা যায়। বাস্তবেও শোনা যায় একাধিক ক্ষেত্রে সংগঠিত অপরাধের (organised crime ) মাথারা, জেলে বসেই ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে থাকে। এক যুগ আগে রাজ্যে তোলপাড় ফেলা সুটিয়ার গণধর্ষণের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করা ও “বাঁওর কেলেঙ্কারি” -র প্রতিবাদী মাস্টার বরুণ বিশ্বাসের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা জেলে বসেই করা হয়েছিল। সম্প্রতি জানা যায় যে, জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ (NIA )স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাথে আলোচনা করেছে যে বর্তমানে উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্যের জেলে বন্দী প্রায় ১২ জন গ্যাংস্টারকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) এই গ্যাংষ্টারদের স্থানান্তরের সুপারিশ করেছিল কারণ তারা বুঝেছিল যে দিল্লি, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার কারাগারে কিছু গ্যাংস্টার জেল থেকে ক্রাইম সিন্ডিকেট ও ক্রাইম চালিয়ে যাচ্ছে সুনিপুন দক্ষতায় ।এ বছর জুলাই মাসের একদম শুরুতেই কিছু বন্দিকে দক্ষিণ ভারতের জেলে স্থানান্তর করার জন্য NIA ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি দিয়েছে। ফলে জেলে বসে অপরাধ পরিচালনার বিষয়টি রাজ্যে বা দেশে অভিনব নয়।অভিনব নয়, ২৯ আগস্ট কয়েকশো কিলোমিটারের দূরত্বে একই মস্তিষ্কপ্রসূত পরিকল্পনায় দুটি ভিন্ন ভিন্ন শহরে দুটি সোনার শো-রুমে ডাকাতি হওয়া । খালি অভিনব, খালি আশ্চর্য হয়ে ভাবার রাজ্য জুড়ে একটি ক্রিমিনাল গ্যাং কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ চালিয়ে গেল? কারা এই গ্যাং? জামতাড়া গ্যাং বা মায়া গ্যাংএর মত নতুন উদয় হওয়া কোনও গ্যাং? নাকি অন্য কোনও চক্র?

পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সিট বাঁকুড়া রেঞ্জের রাজ্য পুলিশের আইজি দশদিনে যা পারলেন , যা যা জানতে পারলেন , অপারেশন চালিয়ে পুলিশ ঝাড়খন্ড থেকে করণজিত সিং সিধু বা তারও চার দিন আগে নয়ডা থেকে বিকাশ কুমারকে গ্রেফতার করতে পারল, তাহলে কী করে এই অপরাধী দলটি কখনও রানাঘাট, কখনও আসানসোল, কখনও দমদম, আবার কখনও ঝাড়খন্ডে বিনাবাধায় ডাকাতি আর হত্যালীলা চালাল? দুর্দান্ত ক্ষিপ্র একটি গ্যাং যেখানে কয়েকটি আলাদা ডিভিসনের চার্জে রয়েছে একাধিক ঝানু অপরাধী যাদের মধ্যে সেরা মানের আইটিবিশেষজ্ঞ থেকে মাস্টার মেকানিক, শার্প শুটার সবাই রয়েছে সেকথা মেনে নিলেও দীর্ঘদিন ধরে অবলীলায় তাদের ইতালিয়ান মাফিয়াদের মত সুমহান করে তোলার পেছনে পুলিশের ভূমিকাও ভাবার। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনীর গৌরব যতই বাড়ুক, এতদিন ধরে একটি গ্যাং সক্রিয় থাকার বিষয় বাংলা বা ভিনরাজ্যের পুলিশের পক্ষে কতটা গর্বের সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। মনে রাখতে হবে এই গ্যাংটির সিংহভাগ সদস্য এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে বা ফেরার।।


More Stories
বিয়ের আসরে গণধ*র্ষণের শিকার গৃহবধূ
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক