সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ সেপ্টেম্বর : তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরপরই পূর্বতন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেছিলেন, ঘুঘুর বাসা রয়েছে রেশন ব্যবস্থায়। পুরোনো দুর্নীতি সমূলে উপড়ে ফেলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন তিনি। সময় গড়িয়েছে, এক যুগ কেটেছে রাজ্যে তৃণমূলের শাসনের। খাদ্য দফতরের মন্ত্রিত্ব পাল্টে গিয়েছে। বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ তাঁর সাধ্যমত দুর্নীতিদমনের চেষ্টা করে চলেছেন, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন দুর্নীতি রোধে কিন্তু দুর্নীতির শেকড় এত গভীরে যে নতুন নতুন দুর্নীতির জন্ম দিচ্ছেন রেশন ডিলাররা। তারা বেপরোয়া। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তারা অনৈতিকভাবে টাকা লেনদেন বা অপরাধ করতেও পিছপা তাঁরা হচ্ছেন না।দুর্নীতিপরায়ণ রেশন ডিলারদের রোখে কে?
খাদ্যমন্ত্রী বারংবার সতর্ক করছেন, খাদ্য দফতর রীতিমত সক্রিয় হেলদোল নেই রেশনডিলারদের। সংবাদ মাধ্যম হোক বা সামাজিক প্রচারমাধ্যম রেশন ডিলারদের অপরাধপ্রবণতা এখনও খুলে-আম দেখা যাচ্ছে। বারাসাতের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের এফ আর ৬৪ রেশন দোকানের রেশন ডিলার সুজয় কুমার রায়ের স্ত্রী লাইনে দাঁড়ানো ক্রেতাদের রেশনের খাদ্যসামগ্রীর বদলে দিচ্ছিলেন টাকা। আর সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পরে টাকা দেওয়ার কথা করে নিলেন রেশন ডিলারের স্ত্রী। তাঁর অপরাধের স্বীকারোক্তির মধ্যেও ঝরে পড়ছিল ঔদ্ধত্য।
অভিযোগ এরকমই যে, ঘুরিয়ে গ্রাহকের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী রেশন ডিলার গ্রাহকের কাছ থেকেই কিনে নিচ্ছেন। সেই খাদ্যসামগ্রী চড়া দামে বাজারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কিনা, সাধারণ গ্রাহকের খাদ্যসামগ্রী কেনার বিষয়ে অনীহা কেন, এই সব প্রশ্নের চেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে এভাবে সরকারি প্রকল্পের আওতাধীন মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী কিনে নেওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছেন রেশন ডিলাররা। খাদ্যমন্ত্রী ঘটনাটি শুনে ব্যবস্থা নেবেন আশ্বাস দিলেও সংশয়হীন ভাবে প্রকাশ্যে বড় মাপের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত রেশন ডিলারদের ঔদ্ধত্য প্রমাণ করছে তাদের অকুতোভয় মনোভাব। তারা এরকম সাহস দেখাচ্ছেন কারণ তারা মনে করছেন তাদের টিকি ছোঁয়া সম্ভব নয়। আর সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দল স্বাভাবিকভাবেই বলছেন, খাদ্য দফতরের ঘুঘুর বাসা যেটুকু চোখে পড়ছে, তা হিমশৈলের চূড়া মাত্র।
আরও পড়ুন : রাস্তার উপর ময়লা ফেলা নিয়ে বিতর্ক, রাতের কলকাতায় ফের চলল গুলি


More Stories
প্রাক্তন বিধায়ক রফিকুরের ভাই আনিস গ্রেফতার
তৃণমূলের শ্বাসকষ্টের আরেক শিকার অভিষেক ঘনিষ্ঠ শুভ্রকান্তির পদত্যাগ
চলে গেলেন বশির বদর