সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর: রাজ্যে ক্রমশ উদ্বেগজনক ডেঙ্গি পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি রুখতে তৎপর রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি নিয়ে গাইডলাইন দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সেইসঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, হুগলি, হাওড়া, মালদহ এই সাতটি জেলাকে হটস্পট ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য দফতর। এহেন পরিস্থিতিতে সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪পরগনা, হাওড়া, হুগলির জেলাশাসক ও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে নবান্নে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এবং স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম। গত এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে ছয় হাজার। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা, শরীরের নানা জায়গা থেকে রক্ত বের হওয়া, শরীরে জলের পরিমাণ কমে যাওয়া, পালস রেট বেড়ে যাওয়া, রক্তচাপও কমে যাওয়া,টানা ২-৭ দিন জ্বর,তীব্র মাথা যন্ত্রণা,গায়ে হাত-পায়ে ব্যথা হয়, সেক্ষেত্রে অবিলম্বে ডেঙ্গি টেস্ট করাতই হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বরের প্রথম ৫ দিনের মধ্যে এনএস-১ এলাইজা টেস্ট করাতেই হবে। জ্বর যদি ৫ দিনের বেশি থাকে, তাহলে আইজিএম এলাইজা টেস্ট করতেই হবে। আর যদি রোগীর জ্বর আসার অন্য কোনও নিশ্চিত কারণ না থাকে, তাহলে সব জ্বরের রোগীকেই ম্যালেরিয়া টেস্ট করাতে হবে। ডেঙ্গি পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে ও ব্লাড ব্যাঙ্কে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। গাইডলাইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রোগীর প্লেটলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নীচে গেলে প্লেটলেট দিতে হবে। যেসব রোগীদের প্লেটলেট কাউন্ট ১০ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে, সেক্ষেত্রে রক্তপাত না হলে প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোন গ্রুপের প্লেটলেট প্রয়োজন, প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ করতে হবে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি সংক্রমণে রোগীর দেহে প্লেটলেট কাউন্ট কমে যায়। তখন রক্তপাত হতে পারে। সে সময়ে প্লেটলেট দিতে হয় রোগীকে।
আরও পড়ুন চীনের দক্ষিণাঞ্চলে গুইঝো প্রদেশের কয়লা খনিতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত অন্তত ১৬

তবে ডেঙ্গির সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্লেটলেট নিয়ে খানিকটা অতিরিক্ত আতঙ্কও তৈরি হয়। অনেকেই ভেবে বসেন, ডেঙ্গি হলেই হাসপাতালে ভর্তি করে প্লেটলেট দিতে হবে। আসলে সবক্ষেত্রে এমন হয় না, প্লেটলেট কমতে শুরু করলেও তা নিয়ে প্রথমেই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অনেক সময়ে নিয়ম মেনে রোগীর যত্ন করলেই প্লেটলেট বেড়ে যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের একাংশ তা না বুঝে আতঙ্কিত হলে প্লেটলেটের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয় বা হাহাকার পড়ে যায়। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে,রাজ্যে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি ২ হাজার ৬০০ পার করে গিয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে হাওড়া। পুরসভার সার্ভে টিম পুর নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছেন। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন নিকাশি নালায় মশার পাদূর্ভাব আটকাতে পুরসভার পক্ষ থেকে করা হচ্ছে স্প্রে। ডেঙ্গি মোকাবিলায় সচেতনতা একমাত্র সবথেকে বড় হাতিয়ার এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


More Stories
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস
স্বাস্থ্য পরিষেবায় আধুনিকীকরণে জোর দেবেন নরেশ রায়
আদালত চত্বরে প্রবল ক্ষোভের মুখে অরুণ ভৌমিক