Home » রেশন দুর্নীতি মামলায় ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বাকিবুরের জেল হেফাজতের নির্দেশ

রেশন দুর্নীতি মামলায় ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বাকিবুরের জেল হেফাজতের নির্দেশ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ অক্টোবরঃ দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে রেশন দুর্নীতি মামলায় বাকিবুর রহমানের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বাকিবুরের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল ব্যাঙ্কশাল আদালত। ইডির আইনজীবী এদিন আদালতে বলেন, ‘রেশনের আটা খোলা বাজারে বিক্রি হয়েছে। রাজ্য পুলিশ তদন্ত করেছে। যেখানে আটা তৈরি হচ্ছে তার মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাকিবুর জামিন পেলে প্রভাব খাটাবেন। প্রমাণ নষ্ট করবেন।’ যদিও পাল্টা বাকিবুরের আইনজীবী এদিন আদালতে বলেন, ‘বাকিবুর ডিস্ট্রিবিউটরদের আটা সাপ্লাই করতেন। তা তাঁরা কী করেছেন, সেটা বাকিবুর রহমানের জানার কথা নয়।’ তাই বাকিবুরকে জামিন দেওয়া হোক, এই আবেদন করেন তিনি। যদিও আদালত বাকিবুরের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরই আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বাকিবুরের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় ব্যাঙ্কশাল আদালত।

আরও পড়ুন    জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ১৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির

প্রসঙ্গত, রেশন বণ্টন দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়া বাকিবুর রহমানের ইডি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়েছে। যেহেতু এখনও মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে জেরা করতে পারেনি ইডি, তাই তদন্তের স্বার্থে এখনও বাকিবুরকেও জেরার প্রয়োজনীতা রয়েছে বলে মনে করেছে ইডি আধিকারিকরা। তাই জেলে বাকিবুর রহমানকে জেরা করার অনুমতি চেয়েছে ইডি। সেই আবেদনই মঞ্জুর করেছে ব্যাঙ্কশাল আদালত। সূত্রের খবর, জেল হেফাজতে গিয়ে বাকিবুরকে জেরা করতে হবে সেই কারণে তাঁর বয়ান রেকর্ড করারও প্রয়োজন আছে। আর বয়ান রেকর্ড করতে গেলে ল্যাপটপ সহ ডিজিটাল ডিভাইসের প্রয়োজন। এই সকল ডিজিটাল ডিভাইস ও প্রয়োজনীয় ল্যাপটপ জেলে নিয়ে যেতে পারবেন গোয়েন্দারা।

প্রসঙ্গত, পুরনিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সেই সূত্র ধরেই বাকিবুর রহমানের (Bakibur Rahaman ) পাঁচটি চালকল এবং আটাকলের খোঁজ মেলে। এরপরই বাকিবুরের বাগুইআটি কৈখালির আবাসনে ৫৪ ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশির পর অবশেষে রেশন দুর্নীতিতে আটক করা হয় বাকিবুর রহমানকে। ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বিভিন্ন ব্যবসা এবং বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে ইডি। এসবের মাঝেই এবার বাকিবুরের বাকি সম্পত্তির পরিমাণ দেখে চক্ষু চড়কগাছ ইডির আধিকারিকদের। সূত্রের দাবি, বাকিবুরের জমির পরিমাণ দেড় হাজার কাঠার বেশি। সাড়ে ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের অন্তত ১০টি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। চালকল মালিক বাকিবুরের জমির পরিমাণ ১ হাজার ৬৩২ কাঠা। যার মধ্যে বেশিরভাগটাই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা এবং বহরমপুরে। এমনকী বিদেশেও রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।

About Post Author