Home » নিউজিল্যান্ডকে দুরমুশ করে শেষ চারের পথে দক্ষিণ আফ্রিকা

নিউজিল্যান্ডকে দুরমুশ করে শেষ চারের পথে দক্ষিণ আফ্রিকা

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ২ নভেম্বর: ভারতের পর এবার বিশ্বকাপের শেষ চারের পথে দক্ষিণ আফ্রিকা। বুধবার পুণের মাঠে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে হেলায় হারাল প্রোটিয়ারা। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ৩৫৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। শতরান করেন কুইন্টন ডি’কক ও রসি ভ্যান ডার দুঁসে। জবাবে ৩৫.২ ওভারে ১৬৭ রানে শেষ হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ১৯০ রানে ম্যাচ জিতে যান টেম্বা বাভূমারা। 

বিশ্বকাপের প্রাক্কালে একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেছিলেন কুইন্টন ডি’কক। নিজের সিদ্ধান্তে যদি অনড় থাকেন, তাহলে এটাই শেষ বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট রক্ষক ব্যাটারের।তবে অবসর নেওয়ার আগে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন ৩০ বছরের এই ক্রিকেটার। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যে চারটি শতরান করে ফেলেছেন তিনি। যার সর্বশেষটি এসেছে বুধবার পুণেতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে এক বিশ্বকাপে চারটি বা তার বেশি শতরান করার নজির গড়লেন তিনি। একই সঙ্গে স্পর্শ করলেন রোহিত শর্মা ও কুমারা সাঙ্গাকারাকে। টসে জিতে এদিন প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাট করতে পাঠায় নিউজিল্যান্ড। শুরু থেকেই বড় রানের লক্ষ্যে খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। অনবদ্য ব্যাটিং করেন কুইন্টন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ঝকঝকে ১১৬ বলে ১১৪ রানের ইনিংস। ১০ টি চার ও ৩ টি ছয়ে সাজালেন নিজের ইনিংসকে। দ্বিতীয় উইকেটে রসি ভ্যান ডার দুঁসের সঙ্গে দ্বিশত রানের জুটিও গড়েন। 

আরও পড়ুন    পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের ইডি দফতরে কামারহাটি পুরসভার চিফ ইঞ্জিনিয়ার

অপরদিকে আগ্রাসী মেজাজে পাওয়া গেল তিন নম্বরে নামা ভ্যান ডার দুঁসেকে। ১১৮ বলে ১৩৩ রান করলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৯টি চার এবং ৫টি ছয়। চলতি বিশ্বকাপে মোট আটটি শতরান করে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড স্পর্শ করল প্রোটিয়ারা। চার নম্বরে নেমে ক্যামিও ইনিংস খেললেন ডেভিড মিলার। ৩০ বলে করলেন ৫৩ রান। ২টি চার এবং ৪টি ছক্কা হাঁকালেন ‘কিলার মিলার’। মূলত এই তিন ব্যাটারের সৌজন্যে ৪ উইকেটে ৩৫৭ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ আফ্রিকার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সামনে এদিন ম্লান মনে হল নিউজিল্যান্ডের বোলারদের। ষষ্ঠ ওভারে বল করতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান ম্যাট হেনরি। যা নিঃসন্দেহে বিপাকে ফেলেছে কিউয়ি বোলিং আক্রমণকে। ৩৫৮ রান তাড়া করতে নেমে ক্রমাগত উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। মাত্র ২ রান করে ফেরেন ওপেনার ডেভন কনওয়ে।

অন্য ওপেনার উইল ইয়ং করেন ৩৩ রান। মিডল অর্ডারে কিছুটা লড়াই করেন ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস । ৩০ বলে ২৪ রান করে আউট হন তিনি মিচেল। এরপর ব্ল্যাক ক্যাপদের হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেন গ্লেন ফিলিপস। ৫০ বলে ৬০ রানের ইনিংস এল তাঁর ব্যাট থেকে। ৪টি চার এবং ৪টি ছয় মারেন ফিলিপস। তবে পাহাড় প্রমাণ রান তাড়া করার পক্ষে তা যথেষ্ট ছিল না। ২৫ ওভারে ১০৯ রানে ৭ উইকেট হারায় গতবারের ফাইনালিস্টরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে সুবিধে করতে পারেননি কোনও কিউয়ি ব্যাটার। ৩৫.৩ ওভারে ১৬৭ রানেই শেষ হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার এদিনের সফলতম বোলার মহারাজ। ৪৬ রানে ৪ উইকেট নিলেন। ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন জানসেন। এছাড়া ৪১ রানে ২ উইকেট নিলেন জেরাল্ড কোয়েৎজি। রাবাডা পেয়েছেন ১ টি উইকেট।

About Post Author