স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৭ নভেম্বর: বিশ্বকাপের মধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে ইতিহাস পঞ্জাবের। দুই সিংয়ের দাপটে প্রথমবারের জন্য সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি জিতল পঞ্জাব। ফাইনালে বারোদাকে ২০ রানে হারালেন মনদীপ সিংরা। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২২৩ রান তোলে পঞ্জাব। পঞ্চ নদের রাজ্যের হয়ে দুরন্ত শতরান করেন আনমোলপ্রীত সিং। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান তোলে বারোদা। পঞ্জাবের হয়ে বল হাতে আগুন ঝরালেন অর্শদীপ সিং।

রবিবার মোহালিতে প্রথমে টসে জিতে পঞ্জাবকে ব্যাট করতে পাঠায় বারোদা। শুরুতে ২ টি উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল পঞ্জাব। প্রথম বলেই অভিষেক শর্মা ডাগআউটে ফেরেন। শুরুটা ভালো করলেও বড় রান পান নি অপর ওপেনার প্রভসিমরান সিং। ৯ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর দলের হাল ধরেন আনমোলপ্রীত সিং ও মনদীপ সিং। ৬২ রানের জুটি গড়েন দুজনে। ২৩ বলে ৩২ রান করে ফেরেন অধিনায়ক মনদীপ। অধিনায়ক ফিরলেও দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যান আনমোলপ্রীত। মাত্র ৫৮ বলে শতরান পূরণ করেন আনমোলপ্রীত। ৬১ বলে ১১৩ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন এই পঞ্জাব ব্যাটার। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ১০ টি চার ও ৬ টি ছয়ে। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন নেহাল ওয়াধেরা। মাত্র ২৩ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশত রান করেন নেহাল। ২৭ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে থামে তাঁর ইনিংস। ৬ টি চার ও ৪ টি ছয় মারেন। তাঁদের ১২৮ রানের জুটিতে ভর করে ৪ ভাইকেট হারিয়ে ২২৩ রানে তোলে পঞ্জাব।

আরও পড়ুন: Asian Champions Trophy Hockey: চক দে ইন্ডিয়া, হকিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করল সোনার মেয়েরা
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় বারোদা। তারপর অবশ্য ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ঝড়ের গতিতে বারোদার ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান নিনাদ রাথওয়া ও অভিমন্যু সিং রাজপুত। ৭১ রানের জুটি হয় দুজনের। ২২ বলে ৪৭ রানে থামে রাথওয়ার ইনিংস। ৫ টি চার ও ৩ টি ছয় মারেন তিনি। এরপর অভিমন্যুর সঙ্গে দলকে টানেন অধিনায়ক ক্রুণাল পান্ডিয়া। দুজনে ৮৮ রানের জুটি গড়েন। এদিনের ম্যাচকে পঞ্জাব কঠিন করে ফেলে ফিল্ডারদের ব্যর্থতায়। একাধিক সহজ ক্যাচ ফেলেন তাঁরা। সেই সুযোগকে কাজে লাগান এই জুটি। সপ্তদশ ওভারে আউট হন অভিমন্যু। ৪২ বলে ৬১ রান করলেন তিনি। ৩ টি চার ও ৪ টি ছয় আসে তাঁর ব্যাট থেকে। এরপর বারোদার ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান অধিনায়ক ক্রুণাল ও বিষ্ণু সোলাঙ্কি। অষ্টদশ ওভারের শেষে বারোদার রান ছিল ১৯১। জয়ের জন্য ২ ওভারে প্রয়োজন প্রায় ৩২ রান। কাজটি মোটেও সহজ ছিল না ক্রুণালদের জন্য। তবে তাঁদের কাজকে অসম্ভব করে দিল অর্শদীপের ১৯ তম ওভার। মাত্র ৪ রান দিয়ে ৩ টি উইকেট তুলে নিলেন বাঁ হাতি পেসার। প্রথম বলে ফেরান অধিনায়ক ক্রুণালকে। ৩২ বলে ৪৫ রান করলেও শেষরক্ষা করতে পারেননি বারোদা অধিনায়ক। দ্বিতীয় বলে আউট করেন শিবালিক শর্মাকে। আর পঞ্চম বলে অর্শদীপের শিকার হন ভানু পানিয়া। এই ওভারটি খেলার টার্নিং পয়েন্ট। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। তবে শেষ ওভারে পাঁচটি ছয় মেরে ম্যাচ জেতানোর মত কোনও রিঙ্কু সিং ক্রুণালদের দলে ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৭ উইকেট খুইয়ে ২০৩ রানে থামতে হয় বারোদাকে।


More Stories
ইউনিটি কাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে ভারত
লালহলুদের ইলিশ উৎসব ধূপগুড়িতে
আকিব নবীর হয়ে সরব বেঙ্গসরকার, তাঁর দাবি ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া হোক