সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ নভেম্বর: মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য এনআইএ-র। মানব পাচার চক্রের হদিস পেতে দেশজুড়ে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে এনআইএ। বুধবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছিল এনআইএ-র অভিযান। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অসম, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা, হরিয়ানা, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর ও পুদুচেরি সহ মোট ৫৫টি জায়গায় দিনভর তল্লাশি চালানো হয়। এরপরই মোট ৪৪ জনকে গ্রেফতার করে এনআইএ। বুধবার এনআইএ মানব পাচারের অভিযানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৩ জন, ত্রিপুরা থেকে ২১ জন, কর্নাটক থেকে ১০ জন, অসম থেকে ৫ জন, তেলেঙ্গানা, পুদুচেরি ও হরিয়ানা থেকেও ১ জন, তামিলনাড়ু থেকে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে নগদ ২০ লক্ষ টাকা ও ৪৫৫০ মার্কিন ডলারও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিপুল পরিমাণে নকল আধার কার্ড ও প্যান কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্র
জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদেরই এদেশে অনুপ্রবেশে সাহায্য করা হত। এরপর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদেরকে নকল পরিচয়ে বসবাস করতেও সাহায্য করত অভিযুক্তরা। অনুপ্রবেশকারীদের পাচারের সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকেও সাহায্য চাওয়া হবে বলেই সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে পাচার সহ নাশকতা রুখতে বিশেষ পদক্ষেপ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকও। এই পর্যটন ব্যবসার আড়ালে অভিযুক্ত ওই পর্যটন ব্যবসায়ী কোনও ব্যক্তিকেও বাংলাদেশে পাচার করে থাকতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন পর্যটন ব্যবসার আড়ালে মানব পাচারের অভিযোগে বারাসাতে এনআইএ-র হানা, গ্রেফতার ১

উল্লেখ্য, পর্যটন ব্যবসার আড়ালে মানব পাচারের অভিযোগে বুধবারই উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে এনআইএ হানা দেয়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এদিন মধ্যরাতে বারাসাতের নবপল্লির ১১ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন রমেশ পল্লি ছায়ানট অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দা বছর পঁয়তাল্লিশের সঞ্জীব দেবের বাড়িতে চলে এনআইএ-র তল্লাশি অভিযান। জানা গিয়েছে,সঞ্জীব দেব পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সাজানো গোছানো বিশাল বাড়িও রয়েছে তার। মঙ্গলবার মধ্যরাতে সেই বাড়ির সামনেই আসে একটি গাড়ি। সেই গাড়ি থেকে নামেন কয়েকজন আধিকারিক। তখনও পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা কিছু বুঝে উঠতে পারেননি ঠিক কী হচ্ছে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে। পরে স্থানীয়রা জানতে পারেন ওই ব্যবসায়ী নাকি মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। তবে, বছর পঁয়তাল্লিশের সঞ্জীব দেব পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত ছিলেন। বাড়ির থেকে সামান্য কিছুটা দূরেই তার অফিস। এদিন আধিকারিকরা ওই ব্যবসায়ীকে সঙ্গে করে নিয়ে তাঁর অফিসেও তল্লাশি চালান।


More Stories
বিজেপি বিপক্ষ দল ভাঙাতে কত কোটি টাকা দিচ্ছে বলে অভিযোগ?
আক্রান্ত হলেন ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে
ভারতে তেলের দাম কি কমছে?