Home » কালনা পুরসভায় আবার ক্ষমতা দখলের জন্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব , চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ ১৪ জন কাউন্সিলরের অনাস্থাসূচক চিঠি

কালনা পুরসভায় আবার ক্ষমতা দখলের জন্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব , চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ ১৪ জন কাউন্সিলরের অনাস্থাসূচক চিঠি

সুজয় ভট্টাচার্য,সময় কলকাতা, ২৩নভেম্বর : কালনা পুরসভার ক্ষমতার অলিন্দে থাকার লড়াই অব্যাহত। মিটেও মিটছে না গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। কালনা পুরসভায় যতই বাইরে থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে পুরবোর্ড সুষ্ঠভাবে চালানোর কথা ভাবুক, ভবি ভোলবার নয়। বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলাররা দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ, কিছুতেই পুরপ্রধান আনন্দ দত্তকে মেনে নিতে রাজি নন। পুরভোটের পর থেকে চলে আসা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলশ্রুতি হিসেবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা সূচক চিঠি ১৪ কাউন্সিলারের।

কালনা পুরসভার চেয়ারম্যান আনন্দ দত্তের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে ১৪ জন কাউন্সিলর  একটি সম্মিলিত চিঠি  বুধবার ইমেইল মারফত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক ও কালনা পুরসভা সহ আধিকারিকদের কাছে পাঠালেন কাউন্সিলররা। উল্লেখ্য কালনা পুরসভায় ১৮ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৭ টি ওয়ার্ডেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কেবলমাত্র কালনার দু নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আর এই ১৭ জনের মধ্যে তিনজন ছাড়া বাকি ১৪  জন কাউন্সিলার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থাসূচক চিঠি দিয়েছেন বুধবার । এ প্রসঙ্গে কালনা পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা কালনা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জী  জানান, বর্তমান চেয়ারম্যানের  আমলে কাজের গতির থমকে রয়েছে।  চেয়ারম্যান নিজের কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জী । জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়বদ্ধতা থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে  তাই তাঁরা অনাস্থা এনেছেন বলেই জানিয়েছেন শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি । যদিও এ প্রসঙ্গে বাকি কাউন্সিলরদের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আর এই চিঠির ও সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ মাধ্যম। তবে এ নিয়ে সন্দেহ নেই কালনা পুরসভা ঘিরে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন দল নতুন নয়। ২০২২ সালের পুরভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই অস্থিরতা রয়েছে কালনা পুরসভায়।  আনন্দ দত্তকে পুরপ্রধান ও তপন পোড়েলকে উপ পুরপ্রধান করতে নির্দেশ দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু বোর্ড গঠনের দিন আনন্দ দত্তের বিরুদ্ধে পুরপ্রধানের পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন তপনবাবু। ১২ জন কাউন্সিলরের সমর্থন পেয়ে পুরপ্রধান নির্বাচিত হন।এরপরে দলের নির্দেশে আবার  চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আনন্দ দত্ত। সে সময়ও  বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলাররা ভোটদানে বিরত ছিলেন। দেড় বছরের মধ্যে বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলর এর সংখ্যা ১২ থেকে ১৪ তে পৌঁছেছে। সূত্রের খবর, বিক্ষুব্ধরা সবাই  শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জির অনুগামী বা ঘনিষ্ঠ।

এখনও দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশের বলে  কালনা পুরসভায় চেয়ারম্যান পদে বহাল  রয়েছেন আনন্দ দত্ত। কিন্তু এই চিঠি চাপাটি দলের ভেতরে ক্ষমতার লড়াই ও অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে  প্রকাশ্যে এনেছে। কালনা পুরসভার ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য দলীয় সিলমোহর চাইছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী। সব মিলিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের  কারণে উত্তাল কালনা পুরসভা।।

About Post Author