Home » ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় এবার মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে শুরু সিবিআই তদন্ত

ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় এবার মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে শুরু সিবিআই তদন্ত

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৬ নভেম্বর: ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় এবার সাঁড়াশি চাপে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করল সিবিআই। যদিও মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত শুরু করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ থাকবে কিনা সেটা নির্ধারিত হবে শীতকালীন অধিবেশনে। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ওঠা সংসদে নগদ দিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগের সত্যতা জানতে দুর্নীতি-বিরোধী লোকপাল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতেই মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। এই তদন্ত রিপোর্টের পরই স্থির হবে, মহুয়ার বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা দায়ের হবে কিনা। জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তের অধীনে সিবিআই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে না বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও তল্লাশি চালাতে পারবে না।

আরও পড়ুন   জম্মু থেকে কাশ্মীরে প্রথম সরাসরি ট্রেন চালু হতে চলেছে

তবে তদন্তের স্বার্থে নথি চাইতে পারে, সেগুলি পরীক্ষা করতে পারে এবং অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তের পর সেই রিপোর্ট লোকপালের কাছেই জমা দেবে সিবিআই। ব্যবসায়ী হীরানন্দ দর্শানির থেকে টাকা নিয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সংসদে প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে অভিযোগ। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে প্রথম এই অভিযোগে সরব হন। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহুয়া। ইতিমধ্যেই মহুয়া মৈত্রর পদ খারিজের সুপারিশ করেছে লোকসভার এথিক্স কমিটি। এবার আরও কড়া হচ্ছে সংসদীয় ওয়েবসাইটে লগ ইনের নিয়ম। জানা গিয়েছে, কোনও ভাবেই তৃতীয় পক্ষ যেন ওই ওয়েবসাইটে ঢুকে কোনও সাংসদের তরফে প্রশ্ন করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে এবার থেকে একটি ওটিপিও সংশ্লিষ্ট সাংসদের রেজিস্টার্ড মোবাইলে পৌঁছবে। একমাত্র সেই ওটিপি দিয়েই ওই ওয়েবসাইটে ঢোকার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাবে।

প্রসঙ্গত, মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজের লগ ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড অন্য কারওকে দেওয়ার। দুবাই থেকে পাসওয়ার্ড দিয়ে সাংসদের ইমেল অ্যাকাউন্টে লগ ইন হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এথিক্স কমিটির সামনে মহুয়া জানিয়েছিলেন, তাঁর বলে দেওয়া প্রশ্ন অন্য অফিসের এক কর্মীকে দিয়ে তিনি টাইপ করিয়েছিলেন। যতবার তিনি প্রশ্ন তৈরি করেছিলেন, ততবারই অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে প্রশ্ন টাইপ করা হয়েছে। আর তাঁর এই বক্তব্য থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেন সাংসদ নিজের ইমেল আইডি, পাসওয়ার্ড অন্য কাউকে দিলেন? কেন বিদেশ থেকেও লগ ইন? এই প্রশ্ন জোরালো হওয়ার মাঝেই এবার সংসদের ওয়েবসাইটে লগ ইনের নিয়মে বদল আনার কথা জানা গেল। অন্যদিকে, সংসদে প্রশ্ন মামলায় আসতে চলেছে বড় বদল। এবার থেকে সাংসদদের হয়ে সংসদে প্রশ্ন করতে পারবেন তাঁদের আপ্তসহায়ক। সংসদে অধিবেশন চলাকালীন কোনও প্রশ্ন করতে হলে তা সাংসদকেই লিখতে হবে। সাংসদদের আপ্তসহায়করা অনলাইনে প্রশ্ন জমা দিতে পারবেন। আপ্তসহায়কদের এই অধিকার অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে সংসদে প্রশ্ন করতে হলে সাংসদদের নিজেদেরই করতে হবে। আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে এই নয়া নিয়ম চালু হতে পারে বলেই জানা গিয়েছে।

About Post Author