সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ ডিসেম্বর: বন্যায় বিপর্যস্ত তামিলনাড়ু। বিপর্যয় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না তামিলনাড়ুর। টানা দুদিন ধরে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্যায় ভেসে গিয়ে এখনও মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। সেই সঙ্গে আহত হন ৩ জন। বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন। প্রকৃতির রোষে অসহায় গোটা রাজ্য। ৮৪টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে থামিরাবরণী নদীর জল। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়ি-ঘর। দুর্যোগের জেরে তুতিকোরিনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তিরুনেলভেলি এবং তেনকাসি জেলায় স্কুল ও কলেজও বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন ফিরছে করোনা আতঙ্ক! পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ বৈঠক
তার মধ্যেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। বায়ুসেনার হেলিকপ্টারের সাহায্যে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দুর্গম অঞ্চলে। লাগাতার বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। বানভাসি জেলাগুলিতে বন্ধ স্কুল-কলেজ। জলমগ্ন বাসিন্দাদের উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দুই দিনে তিরুনেলভেলি,তেনকাশি, কন্যাকুমারী ও তুতিকোরিন জেলায় রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে রাস্তা, রেললাইন, ব্রিজ জলের তলায়। কার্যত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। বন্যার প্রভাব পড়েছে ট্রেন চলাচলেও। প্লাবিত জেলাগুলির ভিতর দিয়ে যাতায়াত করা ট্রেনগুলিকে বাতিল করা হয়েছে।
রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত তুতিকোরিনের থিরুচেনদুরে ৬০ সেন্টিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তিরুনেলভেলি জেলার পালয়মকোট্টাইতে ২৬ সেমি বৃষ্টি হয়েছে। কন্যাকুমারীতে হয়েছে ১৭.৩ সেমি বৃষ্টি। সোমবারও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে সর্বত্র। তাতে অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ৫০০ জন আটকে রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করার চেষ্টা করছে প্রশাসন। এদিকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে। তিনি আবেদন করেছেন, সাম্প্রতিক দুর্যোগকে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ বলে ঘোষণা করা হোক।


More Stories
কেরলের নামবদল : প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
ধর্মই ক্ষমতার উৎস : গীতাপাঠ ও বাবরি মসজিদ
গাড়ি বিস্ফোরণ : মুঘল সুলতানার আক্ষেপ, সাধের দিল্লি নগরীর কী হবে?