Home » ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬০০

ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬০০

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর: বড়দিনের আগেই ফিরছে করোনা আতঙ্ক! ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনার সাব ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১। ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনার গ্রাফ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সব রাজ্যের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এখনও পর্যন্ত এই সাব ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ২১ জনের হদিশ মিলেছে। কেরল, মহারাষ্ট্র, গোয়া,  এই তিন রাজ্যে জেএন.১-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কেরলে তিনজন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে।  ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তবে, তিন রাজ্যের মধ্যে গোয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ জন। এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬০০ জন। যার মধ্যে কেরলেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। গত দু’সপ্তাহ ধরে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৬৯ জন।  

আরও পড়ুন  শীতের পথে বাধা পশ্চিমী ঝঞ্ঝা, কলকাতা সহ একাধিক জেলায় ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রার পারদ

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে কোভিড পরিস্থিতির উপর নজরদারির যে গাইডলাইন রয়েছে, তা মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো কোনও অসুস্থতা বা শ্বাসজনিত কোনও অসুস্থতার উপর জেলাস্তরে নজরদারি আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য নিয়মিতভাবে ইন্টিগ্রেটেড হেল্থ ইনফরমেশন পোর্টালে তোলার জন্য বলা হয়েছে। জেলাস্তরে যাতে নির্দিষ্ট অনুমাতে আরটি-পিসিআর ও অ্যান্টিজেন টেস্ট হয়, সেই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে আরটিপিসিআর পরীক্ষার উপর। কোনও নমুনায় করোনার সংক্রমণ ধরা পড়লে, সেটি সঙ্গে সঙ্গে জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর জন্য বলা হয়েছে। যাতে কোনও নতুন ভ্যারিয়েন্ট ঢুকে পড়েছে কি না, তা আগে ভাগে শনাক্ত করা যায়। প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে কি না, তাও দেখে নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্র।

 

তবে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও নতুন ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১-এ আক্রান্তেরও সন্ধান মেলেনি। রাজ্যের স্বাস্থ্যভসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানিয়েছেন,‘ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যনমন্ত্রকের সঙ্গে বুধবার আলোচনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এসওপি তৈরি করেছে। স্বাস্থ্যেভবনের দাবি, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে কোনও করোনা আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি। তবে, বেলেঘাটা আইডি এবং এমআর বাঙুরের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। দুটি হাসপাতালে ৩৩ ও ৩০টি শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকমন্ত্রকের নির্দেশে দুটি হাসপাতালেই মকড্রিল হয়েছে। সিসিইউ, আইসিইউ শয্যা , মেডিক্যা ল অক্সিজেন পাইপ লাইন পরীক্ষা, সবকিছুরই ব্যাবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে করোনা সংক্রান্ত সংশোধিত গাইডলাইন মেনে চলার উপর প্রতিটি রাজ্যকে জোর দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব রাজ্যের জন্য কোভিডের উপর নজরদারি রাখতে আট দফা নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। কেরলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যার গ্রাফ সামান্য বেড়ে গিয়েছে।

About Post Author