Home » ঊর্ধ্বমুখী করোনা গ্রাফ, রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৮

ঊর্ধ্বমুখী করোনা গ্রাফ, রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৮

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর: ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১। সাধারণ মানুষকে গ্রাস করছে করোনা আতঙ্ক! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সব রাজ্যের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনা গ্রাফ। ভারতেও হু হু করে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই সাব ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ২১ জনের হদিশ মিলেছে। এসবের মাঝেই এবার রাজ্যে ৮ জন করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলল। শহরের একাধিক সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, বিহারের এক বাসিন্দা ৬ মাসের শিশুকে নিয়ে দিন কয়েক আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপরই তার শরীরে মিলেছে করোনা ভাইরাস। হৃদরোগ এবং ম্যালেরিয়ার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া অন্য দুই রোগীর দেহেও করোনার সংক্রমণ মিলেছিল। দেশের উদ্বিগ্ন পরিস্থিতির মধ্যেই করোনা পরীক্ষায় রীতিমত তৎপর রাজ্য। শুক্রবার রাজ্যে নতুন করে ৫ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাঁরা শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কেউ কেউ বাড়িতেও আইসোলেশনে রয়েছেন। এদের মধ্যে দুজন একই পরিবারের সদস্য।

আরও পড়ুন   OPTICALILLUSIONS: পৃথিবীর মাত্র ১ শতাংশ মানুষ পারবে ছবি দুটি থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে বের করতে

তবে তাঁরা করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১-এ আক্রান্ত কিনা, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। সূত্রের খবর, জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য কল্যাণীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বায়োমেডিক্যাল জিনোমিক্সে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যভসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানিয়েছেন,‘ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যনমন্ত্রকের সঙ্গে বুধবার আলোচনা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এসওপি তৈরি করেছে। স্বাস্থ্যেভবনের দাবি, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে কোনও করোনা আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি। তবে, বেলেঘাটা আইডি এবং এমআর বাঙুরের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। দুটি হাসপাতালে ৩৩ ও ৩০টি শয্যা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকমন্ত্রকের নির্দেশে দুটি হাসপাতালেই মকড্রিল হয়েছে। সিসিইউ, আইসিইউ শয্যা , মেডিক্যা ল অক্সিজেন পাইপ লাইন পরীক্ষা, সবকিছুরই ব্যাবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে করোনা সংক্রান্ত সংশোধিত গাইডলাইন মেনে চলার উপর প্রতিটি রাজ্যকে জোর দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব রাজ্যের জন্য কোভিডের উপর নজরদারি রাখতে আট দফা নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। কেরলে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। করোনা আক্রান্তের সংখ্যার গ্রাফ সামান্য বেড়ে গিয়েছে।

 

অন্যদিকে, কেরল, মহারাষ্ট্র, গোয়া, এই তিন রাজ্যে জেএন.১-এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। কেরলে তিনজন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলিকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তবে, তিন রাজ্যের মধ্যে গোয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ জন। এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬০০-রও বেশি জন। যার মধ্যে কেরলেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। গত দু’সপ্তাহ ধরে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৭৯ জন।

About Post Author